Ajker Patrika

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় আটক ৩

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ৩৯
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় আটক ৩
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।

আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধ। জমির দখল ও বেদখলকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা। আমরা এই ঘটনা তদন্ত করে দেখছি।’

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আটক তিনজন হলেন ভাষানটেক বস্তির মো. মামুন, মজুমদারের মোড়ের আসলাম এবং অপরজন মুন্না।

গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এই হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন সালমান মুক্তাদির। তিনি বলেন, বিএনপির লোকজন তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিশোধ হিসেবে তাঁর স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন সালমান মুক্তাদির। তিনি সেখানে বলেন, ‘এই ভিডিওটা শুধু বানানো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য, প্লিজ আপনি কোনও টেনশন নিবেন না। দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ।’

মুক্তাদির বলেন, ‘এই রকম কোনো স্টুডিও বাংলাদেশে ছিল না। এটা ভাঙার পরও আমি কেন ভেঙে পড়ছি না, কারণ বাংলাদেশে যারা নতুন কিছু করতে চান, তাদের জন্য নতুন কিছু শেখাতে চাই। আপনি যদি কারও তোষামোদি না করেন, আপনার যদি কোনও ব্যাকআপ না থাকে, আপনি যদি কোনও পলিটিকস না করেন, সিকিউরিটি টাকা পয়সা দিয়ে কিনতে না পারেন তাদের সঙ্গে বাংলাদেশে এমনটাই ঘটবে। সে জন্য আমরা বলি পায়ের নিচে মাটি শক্ত না থাকলে আমাদের কিছু করা উচিত না।’

তিনি বলেন, ‘আমি এভাবে কথা বলছি কারণ আমি স্ট্রং, কিন্তু অনেকে এটা নিতে পারবে না, কারণ বেশির ভাগ মানুষ স্ট্রং না।’

সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘গত ১২ বছরে আমি একটা ছোট্ট রুম থেকে এ পর্যায়ে এসেছি। তোমরা যদি বাংলাদেশে কোনও স্বপ্ন দেখো, তাহলে তোমাদের ক্ষেত্রেও এটাই (ভাঙচুরের চিত্র দেখিয়ে) হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার যে স্বপ্ন ছিল, তা আমি পূরণ করছি। বিএনপির যারা এটা করেছ, তোমরা এর থেকে বড় আর হতে পারবা না। এটাই তোমাদের নেচার।’

সহকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই অফিসের খেটে খাওয়া মানুষগুলো কান্না করছে।’ তাদের সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এর থেকে বড় কিছু করবো। তোমরা চিন্তা করো না।’

এ সময় কয়েকজনকে কান্না করতে দেখা যায়। তাঁদের সান্ত্বনা দেন মুক্তাদির। এ সময় পাশে তাঁর স্ত্রীকেও দেখা যায়।

স্টুডিওর এক কর্মকর্তার ভাষ্য, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। তাঁদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

আতঙ্কে স্টুডিওর কর্মকর্তারা টয়লেটে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিওতে স্টুডিওর ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাব ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। স্টুডিওর বিভিন্ন জিনিসপত্র লুটপাটের অভিযোগও করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত