Ajker Patrika

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম

মুফতি শাব্বির আহমদ
ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম
ফাইল ছবি

একজন মুমিনের ইবাদত কবুল হওয়ার প্রাথমিক শর্ত হলো পবিত্রতা। ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম না জানলে আমাদের নামাজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় হবে না। গোসলের সময় যদি এই তিনটি কাজের কোনো একটি বাদ পড়ে, তবে গোসল শুদ্ধ হবে না এবং ব্যক্তি অপবিত্রই থেকে যাবেন: এক. ভালোভাবে মুখ ভরে পানি নিয়ে গড়গড়াসহকারে কুলি করা। দুই. নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি পৌঁছানো। তিন. মাথার চুল থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত দেহের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছানো।

সুন্নাহসম্মত উপায়ে ফরজ গোসল: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গোসলের আদর্শ পদ্ধতি অনুসরণ করা সবচেয়ে উত্তম। হাদিসের আলোকে সেই পদ্ধতিটি হলো: প্রথমে হাত ধুয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনে প্রস্রাব করা (যাতে বীর্য বা অপবিত্রতা পুরোপুরি বের হয়ে যায়)। এরপর গোপন অঙ্গ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া। নামাজের অজুর মতো পূর্ণাঙ্গ অজু করা। তবে গোসলের স্থানে পানি জমে থাকলে সবার শেষে পা ধোয়ার কাজটি করা যেতে পারে। এরপর প্রথমে মাথায় তিনবার পানি ঢালা। প্রথমে শরীরের ডান অংশে এবং পরে বাঁ অংশে পানি ঢেলে পুরো শরীর ভালোভাবে ধৌত করা।

ফরজ গোসলে সতর্কতা: অসতর্কতায় শরীরের কিছু অংশ শুকনো থাকলে ফরজ গোসল হয় না। তাই গোসলের সময় কিছু বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখা জরুরি:

১. নাভির ভেতর, কানের ছিদ্র, বগল ও আঙুলের ফাঁকে হাত দিয়ে ঘষে পানি পৌঁছাতে হবে।

২. আংটি, ঘড়ি, নাকফুল বা কানের দুল নাড়িয়ে ভেতরে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

৩. পুরুষদের দাড়ি, গোঁফ ও চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছাতে হবে।

৪. নারীদের বেণি বা খোঁপা না খুলে গোড়ায় পানি পৌঁছানো সম্ভব হলে তা খোলা জরুরি নয়; তবে চুল খোলা থাকলে পুরো চুল ভেজানো ফরজ।

৫. নেইল পলিশ, সুপার গ্লু বা রং তুলে চামড়ায় পানি পৌঁছাতে হবে।

৬. দাঁতে স্থায়ী ক্যাপ থাকলে খোলার দরকার নেই, তবে সহজে খোলা যায়—এমন কিছু থাকলে খুলে ধুতে হবে।

শরীরের একচুল পরিমাণ জায়গাও যদি শুকনো থাকে, তবে ফরজ গোসল হবে না। তাই তাড়াহুড়ো না করে ধীরস্থিরভাবে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত