Ajker Patrika

পল্লবীতে গুলির ঘটনায় হত্যাচেষ্টার মামলা, গ্রেপ্তার নেই

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২২: ২৫
পল্লবীতে গুলির ঘটনায় হত্যাচেষ্টার মামলা, গ্রেপ্তার নেই
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে চলন্ত প্রাইভেটকার থেকে ছোড়া গুলিতে নারীসহ দুজন গুলিবিদ্ধের ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন আহত আলমগীর হোসেনের স্ত্রী রিনা আক্তার। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশীর আজ শনিবার রাত ৮টার দিকে আজকের পত্রিকাকে বলেন, শুক্রবার মধ্যরাতে আলমগীর হোসেনের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। এতে রুবেল ও বাপ্পা নামের দুজনকে আসামি করা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। খুব শিগগিরই তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারব বলে আশা করছি।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্পের ২ নম্বর গলিতে আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে আলমগীর হোসেনের (৪৫) মাথা ও পেটে গুলিবিদ্ধ হয়। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় ছোড়া আরেকটি গুলি জ্যোৎস্না বেগমের ডান পায়ে লাগে। জ্যোৎস্না সে সময় রাস্তা পার হচ্ছিলেন।

মামলায় নাম উল্লেখ করা দুজন আসামি স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।

পল্লবী থানা-পুলিশ বলছে, মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘ল্যাংড়া রুবেল’ ও তার সহযোগী বাপ্পা একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে এসে আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ আলমগীর হোসেনের স্ত্রী রিনা আক্তার আজকের পত্রিকাকে জানান, শুক্রবার রাতে তাঁর স্বামীর ওপর হামলার পর তাঁকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানিয়েছেন, হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে পেটে ও বুকে গুলি চালিয়েছে। একটি গুলি মাথা ছুঁয়ে বের হয়ে গেলেও দুটি গুলি শরীরের ভেতরে-একটি মেরুদণ্ডের হাড়ে এবং অন্যটি কিডনিতে আটকে আছে। এ ছাড়া গুলির আঘাতে তার খাদ্যনালী ও রক্তনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আলমগীর হোসেনকে এ পর্যন্ত একাধিক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর অবস্থা এখনো চরম আশঙ্কাজনক। তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।

হামলার কারণ সম্পর্কে স্বজনদের ধারণা, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক হামলা। ইতিপূর্বে ‘পেপার সানি’ হত্যা মামলার সময় আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমে এলাকার মাদক ব্যবসা ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন। পুলিশের তালিকায় পলাতক থাকা ক্যাডার রুবেল গত চার দিন আগে ঢাকায় ফিরে আলমগীরকে অনুসরণ করা শুরু করে। অবশেষ গতকাল এ হামলা চালায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত