রবিউল আলম, মুন্সিগঞ্জ থেকে

‘ছেলেটা সারা দিন বাসায় মন খারাপ করে বসে থাকে। স্কুলে গেলে সবাই আসামির ছেলে বলে ডাকে, তাই স্কুল থেকেও বলে দিয়েছে আপাতত না যেতে। বাসায় কোনো পুরুষ মানুষ নাই, তাই ঢাকা থেকে ভাই কাজ ফেলে আমাদের এখানে থাকছেন। আমি চাই, আমার স্বামীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এ রকম যেন কোনো শিক্ষকের বেলায় না ঘটে।’ অসহায় চোখে তাকিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার মুন্সিগঞ্জ সদরের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের স্ত্রী ববিতা হাওলাদার।
আজ শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলসংলগ্ন নিজ কোয়ার্টারের প্রধান ফটক বন্ধ। বাসায় অবস্থান করছে হৃদয় মণ্ডলের পরিবার। বাসা থেকে কেউ বাইরে বের হয় না। কেউ দেখা করতে এলে পরিচয় জেনে তারপর কথা বলে।
ববিতা হাওলাদার বলেন, ‘এ ঘটনার আগে বাসার দরজা সব সময়ই খোলা রাখতাম। এখন ভয়ে থাকি, কখন আবার কে এসে হামলা করে। আমাদের পরিবারে তো পুরুষ বলতে উনিই ছিলেন। এখন তাঁকে অন্যায়ভাবে পুলিশ নিয়ে গেছে। তাই আমার ভাইকে অনুরোধ করে এখানে নিয়ে এসেছি। কখন কোন বিপদ আসে বলা তো আর যায় না।’
এদিকে এ ঘটনার পর থেকেই স্কুলে যেতে পারছে না হৃদয় মণ্ডলের ছেলে ওই স্কুলেরই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রেষ্ঠ (১১)। আজকের পত্রিকার এই প্রতিবেদককে শ্রেষ্ঠ বলে, ‘স্কুল থেকে প্রধান শিক্ষক মাকে বলে দিয়েছে আমাকে যেন স্কুলে না পাঠায়। স্কুলে গেলে সহপাঠীরা আসামির ছেলে বলে ডাকে; আর সবাই কেমন-কেমন করে যেন তাকায়। স্কুলে যেতে মন চায়, কিন্তু ভয়ে যেতেও পারি না। বাসায় থেকেও আর ভালো লাগছে না। আগে বাবা স্কুলে ছিল, এখন তো কেউ আর নাই।’
ববিতা হাওলাদার বলেন, ‘শ্রেষ্ঠর ছোট বোন সৃষ্টিকে (৫) এবার স্কুলে ভর্তি করানোর কথা ছিল। কিন্তু এ ঘটনার পর তাকে স্কুলে আর ভর্তি করানো হয়নি। আর ছেলেকেও স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। কারণ, কটুবাক্য শুনে সহ্য করতে না পেরে সে সারা দিন মন খারাপ করে থাকে।’

হামলার কোনো শঙ্কা আছে কি না, জানতে চাইলে ববিতা হাওলাদার বলেন, ‘শঙ্কা তো আছেই। দুই দিন আগে রাতে দরজায় লাথি মারারও আওয়াজ পেয়েছিলাম। আর পুলিশ প্রথম দিন একজন ছিল; এখন তেমন আর আসেও না।’
তবে আজ সকাল থেকে বাসার আশপাশে পুলিশের কোনো উপস্থিতি না দেখা গেলেও জুমার নামাজের সময় পুলিশের একটি টিমকে স্কুলের সামনে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় দোকানদার বাবুল হোসেন জানান, যেদিন ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শুধু সেদিন এ নিয়ে একটু আলাপ-আলোচনা হয়েছিল। এরপর গ্রামের মানুষ এ নিয়ে তেমন কথাও বলে না। তবে গ্রামের প্রায় সবাইকে ছাত্ররা জানিয়েছে, হৃদয় মণ্ডল ধর্মের বিপক্ষে কথা বলেছেন এবং এ নিয়ে একটা ভিডিও রেকর্ডও দেখিয়েছে তারা। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পর আর ঝামেলা হয়নি।
এদিকে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের পরিবারের দাবি, একই স্কুলে ২২ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন হৃদয় মণ্ডল। জীবনে এ ধরনের ধর্ম অবমাননার কোনো অভিযোগ ওঠেনি। যেই দিনের ঘটনা, সেদিন প্রক্সি হিসেবে প্রধান শিক্ষক তাঁকে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ক্লাসে পাঠান। যেহেতু বাংলা বিষয়ে উনি পড়ান না, তাই বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াবেন বলে জানান। তখন ছাত্ররা তাঁকে ধর্ম ও বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এ নিয়ে ছাত্রের সঙ্গে কিছুটা তর্কবিতর্কও হয়। সেটি রেকর্ড করে আরেক শিক্ষার্থী।

‘ছেলেটা সারা দিন বাসায় মন খারাপ করে বসে থাকে। স্কুলে গেলে সবাই আসামির ছেলে বলে ডাকে, তাই স্কুল থেকেও বলে দিয়েছে আপাতত না যেতে। বাসায় কোনো পুরুষ মানুষ নাই, তাই ঢাকা থেকে ভাই কাজ ফেলে আমাদের এখানে থাকছেন। আমি চাই, আমার স্বামীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এ রকম যেন কোনো শিক্ষকের বেলায় না ঘটে।’ অসহায় চোখে তাকিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার মুন্সিগঞ্জ সদরের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের স্ত্রী ববিতা হাওলাদার।
আজ শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলসংলগ্ন নিজ কোয়ার্টারের প্রধান ফটক বন্ধ। বাসায় অবস্থান করছে হৃদয় মণ্ডলের পরিবার। বাসা থেকে কেউ বাইরে বের হয় না। কেউ দেখা করতে এলে পরিচয় জেনে তারপর কথা বলে।
ববিতা হাওলাদার বলেন, ‘এ ঘটনার আগে বাসার দরজা সব সময়ই খোলা রাখতাম। এখন ভয়ে থাকি, কখন আবার কে এসে হামলা করে। আমাদের পরিবারে তো পুরুষ বলতে উনিই ছিলেন। এখন তাঁকে অন্যায়ভাবে পুলিশ নিয়ে গেছে। তাই আমার ভাইকে অনুরোধ করে এখানে নিয়ে এসেছি। কখন কোন বিপদ আসে বলা তো আর যায় না।’
এদিকে এ ঘটনার পর থেকেই স্কুলে যেতে পারছে না হৃদয় মণ্ডলের ছেলে ওই স্কুলেরই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রেষ্ঠ (১১)। আজকের পত্রিকার এই প্রতিবেদককে শ্রেষ্ঠ বলে, ‘স্কুল থেকে প্রধান শিক্ষক মাকে বলে দিয়েছে আমাকে যেন স্কুলে না পাঠায়। স্কুলে গেলে সহপাঠীরা আসামির ছেলে বলে ডাকে; আর সবাই কেমন-কেমন করে যেন তাকায়। স্কুলে যেতে মন চায়, কিন্তু ভয়ে যেতেও পারি না। বাসায় থেকেও আর ভালো লাগছে না। আগে বাবা স্কুলে ছিল, এখন তো কেউ আর নাই।’
ববিতা হাওলাদার বলেন, ‘শ্রেষ্ঠর ছোট বোন সৃষ্টিকে (৫) এবার স্কুলে ভর্তি করানোর কথা ছিল। কিন্তু এ ঘটনার পর তাকে স্কুলে আর ভর্তি করানো হয়নি। আর ছেলেকেও স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। কারণ, কটুবাক্য শুনে সহ্য করতে না পেরে সে সারা দিন মন খারাপ করে থাকে।’

হামলার কোনো শঙ্কা আছে কি না, জানতে চাইলে ববিতা হাওলাদার বলেন, ‘শঙ্কা তো আছেই। দুই দিন আগে রাতে দরজায় লাথি মারারও আওয়াজ পেয়েছিলাম। আর পুলিশ প্রথম দিন একজন ছিল; এখন তেমন আর আসেও না।’
তবে আজ সকাল থেকে বাসার আশপাশে পুলিশের কোনো উপস্থিতি না দেখা গেলেও জুমার নামাজের সময় পুলিশের একটি টিমকে স্কুলের সামনে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় দোকানদার বাবুল হোসেন জানান, যেদিন ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শুধু সেদিন এ নিয়ে একটু আলাপ-আলোচনা হয়েছিল। এরপর গ্রামের মানুষ এ নিয়ে তেমন কথাও বলে না। তবে গ্রামের প্রায় সবাইকে ছাত্ররা জানিয়েছে, হৃদয় মণ্ডল ধর্মের বিপক্ষে কথা বলেছেন এবং এ নিয়ে একটা ভিডিও রেকর্ডও দেখিয়েছে তারা। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পর আর ঝামেলা হয়নি।
এদিকে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের পরিবারের দাবি, একই স্কুলে ২২ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন হৃদয় মণ্ডল। জীবনে এ ধরনের ধর্ম অবমাননার কোনো অভিযোগ ওঠেনি। যেই দিনের ঘটনা, সেদিন প্রক্সি হিসেবে প্রধান শিক্ষক তাঁকে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ক্লাসে পাঠান। যেহেতু বাংলা বিষয়ে উনি পড়ান না, তাই বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াবেন বলে জানান। তখন ছাত্ররা তাঁকে ধর্ম ও বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এ নিয়ে ছাত্রের সঙ্গে কিছুটা তর্কবিতর্কও হয়। সেটি রেকর্ড করে আরেক শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস ফলের দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পান দোকানি। তবে বাসের ধাক্কায় গুঁড়িয়ে গেছে ওই ফলের দোকানটি। বাসের ধাক্কায় একটি অটোরিকশাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোববার (১১ জানুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার বরুমচড়া রাস্তার মাথা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
২১ মিনিট আগে
বিতণ্ডার কিছুক্ষণ পর ফাহিমা গোসলের জন্য ঘরে প্রবেশ করলে সাইদ সিয়াম তাঁর চার-পাঁচজন সহযোগীকে নিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ ফাহিমার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ফাহিমার চিৎকারে তাঁর চাচা আবু তাহের, চাচাতো ভাই ইকবাল হোসেন এবং বোনের জামাই শাহজালাল এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁদেরও কুপিয়ে জখম করেন।
২৬ মিনিট আগে
‘অনেকগুলো বিষয় আছে, যেগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। এর মধ্যে এই বিষয়টিও রয়েছে। কিছুদিন আগে ভিকটিম একটা মানববন্ধন করেছিলেন চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। সেখানে মারামারি হয়েছিল। সে ঘটনায় মামলা হয়েছে। তা ছাড়া তিনি উদীয়মান জনপ্রিয় নেতা। এই বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।’
৩৯ মিনিট আগে
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন তেতুইবাড়ী এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ বন্ধ করে হামলা, ভাঙচুর ও কর্তৃপক্ষকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
১ ঘণ্টা আগে