Ajker Patrika

হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী হত্যা: দায় স্বীকার করে সিয়ামের জবানবন্দি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী হত্যা: দায় স্বীকার করে সিয়ামের জবানবন্দি
গ্রেপ্তার সিয়াম। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামি সিয়াম হোসেন ইমন (১৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ দুপুরে তাঁকে হাজারীবাগ থানা-পুলিশ আদালতে হাজির করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মতিউর রহমান আসামির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। পরে আদালত তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের হাজারীবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এসআই আবুল বাসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সিয়ামকে রাজধানীর কাঁঠালবাগান থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, রক্তমাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট জব্দ করা হয়েছে।

গত বুধবার রাত ৯টার দিকে হাজারীবাগ থানার রায়েরবাজার এলাকায় বাসার সামনে বিন্তি নামের ওই শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়। ছুরিকাঘাতের পর অভিযুক্ত কিছুক্ষণ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পরে মোটরসাইকেলে করে চলে যায়।

এই ঘটনায় বিন্তির বাবা মো. বিল্লাল হোসেন বৃহস্পতিবার হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সিয়াম আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন, তাঁর ও বিন্তির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সম্প্রতি মনোমালিন্য তৈরি হয়। তাঁর সন্দেহ ছিল, বিন্তি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। পরে কিছুদিন ধরে তাঁর সঙ্গে আবার যোগাযোগ হয়। বিন্তির অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি না তা যাচাই করেন সিয়াম। তিনি যাচাই করে জানতে পারেন তাঁর সন্দেহ সঠিক।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামি ভিকটিমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ভিকটিম দোষ স্বীকার না করায় তাকে হত্যা করবে এমন পরিকল্পনা করে।

২৫ ফেব্রুয়ারি ঘটনার দিন আসামি হাজারীবাগ এলাকার ট্যানারি মোড় থেকে একটি চাকু কিনে পকেটে রাখেন। ওই দিন সন্ধ্যায় আসামি রায়েরবাজার স্কুলের সামনে বিন্তিকে দেখা করার জন্য ডাকেন। দুজন রিকশায় করে বাংলামোটর এলাকায় যান এবং আবার ফিরে আসেন। দুজন বিন্তির বাসার পাশে কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করেন। এ সময় আসামি বিন্তিকে ক্ষমা চাইতে বলেন। বিন্তির আগের মতো অন্যত্র সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে।

এরপর আসামি পরিকল্পনা অনুযায়ী বিন্তিকে এক হাতে জাপটে ধরেন এবং অপর হাত দিয়ে পেটে ও পিঠে চাকু দিয়ে আঘাত করেন। ভুক্তভোগী রক্তাক্ত হয়ে গেলে আসামি তাকে ছেড়ে দেন। আঘাতের একপর্যায়ে ভিকটিম গুরুতর জখম হয়ে শরীর রক্তাক্ত হয়ে গেলে আসামি ভিকটিমকে ছেড়ে দেন। ভিকটিম দৌড়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। আসামি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে নিজের জামায় চাকুর রক্ত মুছে। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে তাঁর বাবা ও চাচার মাধ্যমে দাদার বাসা কাঁঠাল বাগানে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দেশে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা

পুলিশ হত্যার তদন্ত হয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও তদন্ত হবে: মির্জা ফখরুল

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা পাকিস্তানের, কাবুলে বিমান হামলা

নরসিংদীতে কিশোরীকে অপহরণের পর হত্যায় বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

ফের কেন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল পাকিস্তান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত