Ajker Patrika

৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল জাবি ক্যাম্পাস

জাবি প্রতিনিধি 
৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল জাবি ক্যাম্পাস
গতকাল রাত ১টার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম পার হওয়ার পর প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে ফের আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হলো থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি নারী শিক্ষার্থীদের হলগুলো ঘুরে চৌরঙ্গী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এসে শেষ হয়৷ এরপর শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করছেন।

অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে শিক্ষার্থীদের ‘এক দুই তিন চার, প্রক্টর তুই গদি ছাড়’, ‘দড়ি ধরে মারো টান, প্রক্টর হবে খান খান’, ‘এক দুই তিন চার, লজ্জা থাকলে গদি ছাড়’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দর্শন বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাজনিন নাহার তাম্মি বলেন, ‘এই প্রক্টরের সময়ে যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর আমরা কোনো সুষ্ঠু সমাধান দেখতে পাই নাই। এই ব্যর্থ প্রক্টরকে আমরা আর চাই না।’

ইতিহাস বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, ‘প্রক্টর পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করব। আমরা আমাদের জায়গা ছাড়ব না। একই সঙ্গে আমাদের যে প্রথম দাবি, অভিযুক্তকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার সেটাকে বাস্তবায়নের জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানাই।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে আমার শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন রয়েছে এবং যৌক্তিকতা রয়েছে, কিন্তু কোনো অপরাধে একজন প্রক্টরকে উপাচার্যের পক্ষ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে—সেটার জন্য একটা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা দরকার। আমি আমার বাসভবনের ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে একজন প্রক্টরকে অব্যাহতি দিতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা আমাদের ন্যূনতম সময় দেবে, এখানে কার গাফিলতি রয়েছে সেটা বের করার জন্য। আমি এক পক্ষের বক্তব্য শুনেছি এবং সেটা সাদরে গ্রহণ করেছি। এখন অন্য পক্ষের বক্তব্য শুনতে হবে। এটার প্রক্রিয়া হচ্ছে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করে এখানে কার গাফিলতি আছে, সেটা বের করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সোয়া ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৩ মে) রাতে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয়। সেখানে বলা হয় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে প্রক্টরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে। দাবি জানানোর ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার পর ফের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের ডাক দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত