
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত বাংলাদেশিদের জীবন ও জীবিকায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি: বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের ওপর প্রভাব ও করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
রামরু জানায়, যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের বহুল আলোচিত ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নিওম সিটি, রেড সি টুরিজম ডেভেলপমেন্ট ও কিদ্দিয়া এন্টারটেইনমেন্ট সিটির মতো মেগা প্রকল্পগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ছিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেলে কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষতি হলে এসব প্রকল্পে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ নেওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে চলে এসেছে। ফলে দেশটি ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে আমিরাতে অবস্থানরত প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রামরু আরও জানায়, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অভিবাসী কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াও ব্যাহত হচ্ছে। ফ্লাইট ও চলাচল সংকটে কর্মী পাঠানো বিলম্বিত বা বাতিল হচ্ছে। এতে নিয়োগ ব্যয় ও অর্থ ফেরত নিয়ে এজেন্ট ও বিদেশগামী কর্মীদের মধ্যে বিরোধ বাড়ছে। সংঘাত দীর্ঘ হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়। রামরুর মতে, যুদ্ধজনিত সংকটে চাকরি হারানো, আহত হওয়া বা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হওয়া কর্মীদের জন্য সরকারের কোনো নির্দিষ্ট জরুরি তহবিল নেই। বাতিল ফ্লাইট, আটকে পড়া কর্মী কিংবা দেশে ফেরা অভিবাসীদের জন্যও কোনো রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
এ ছাড়া সংঘাতকবলিত অঞ্চল থেকে ফেরত আসা কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য আলাদা কোনো পুনঃএকত্রীকরণ কর্মসূচি নেই বলেও উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে যেসব কর্মী চাকরি হারিয়েও দেশে ফিরতে পারছেন না, তাদের জন্য জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় সহায়তার কোনো পূর্বপ্রস্তুতি নেই।
রামরু বলছে, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা গৃহকর্মীদের বড় একটি অংশ এখনো সংকটকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে। একই সঙ্গে ফ্লাইট টিকিট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণ বিতরণও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রবাসী কর্মীদের সহায়তার জন্য জাতীয় বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। এ ধরনের সংকটে দ্রুত সাড়া দিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত একটি বিশেষ তহবিল গঠন জরুরি।
ড. তাসনিম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে অনেক বাংলাদেশি কর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আনুমানিক প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক আটকে থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ অনেক নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নতুন কর্মী নিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।
এ গবেষক আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছু আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ব্যবসা অন্য দেশে সরিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্কের মতো দেশে বিনিয়োগ স্থানান্তরের প্রবণতা বাড়ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা নয়, দীর্ঘ মেয়াদে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর না দিলে বাংলাদেশের অভিবাসন খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলেও মনে করেন এ গবেষক।

ঝড়ে পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে যায় পুকুরে। আর সেই পুকুরে গোসল করতে নেমে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মা ও তাঁর দুই বছর বয়সী সন্তান। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে বরগুনা সদরের ঢলুয়া ইউনিয়নের রায়ভোগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই নারীর নাম নুপুর বেগম (৩০)। তাঁর ছেলে শাহাদাৎ (২)।
৪ মিনিট আগে
খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ি গ্রামে আম খাওয়ার পর একই পরিবারের পাঁচ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এ ঘটনায় লতিকা সানা (৫৫) নামে এক নারী মারা গেছেন।
৬ মিনিট আগে
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এক কারারক্ষীর বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় সোনার গয়না, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের চাঁদের বাপের পাড়ার ফয়জুল আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ফয়জুলের বড় ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুস্তাহিদ কুমিল্লা...
৭ মিনিট আগে
নীলফামারীর সৈয়দপুরে দেশীয় প্রজাতির পাখি বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে প্রশাসন। আজ বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সৈয়দপুর উপজেলার নিয়ামতপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।
৭ মিনিট আগে