Ajker Patrika

ছিনতাইয়ের পর ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, ঢামেকে যুবকের মৃত্যু

ঢামেক প্রতিবেদক
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৩৯
ছিনতাইয়ের পর ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, ঢামেকে যুবকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

বাড়ি ফেরার পথে রাজধানীর কুর্মিটোলায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন হাফিজুর রহমান (২৫)। ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁকে ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কুর্মিটোলা হাসপাতালের পেছনে রেললাইনের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন হাফিজুর। পরে পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহত হাফিজুর বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরচিংগুরি গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান শেখের ছেলে। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুরে শৈলদা নামের একটি রিসোর্টে চাকরি করতেন। গ্রামে তাঁর স্ত্রী-সন্তান রয়েছে।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই পথচারী হাফিজুরকে আহত অবস্থায় ঢামেকে এনে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রথমে তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে দুপুরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত হয়।

হাফিজুরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী ফয়েজ জানান, গতকাল সন্ধ্যার দিকে কুর্মিটোলা হাসপাতালের পেছনে রেললাইনের ধারে মানুষের জটলা দেখে তিনি সেখানে যান। সেখানে হাফিজুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, কমলাপুরগামী একটি চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইকারীরা হাফিজুরের ওপর হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

ফয়েজ জানান, পরে হাফিজুরকে প্রথমে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাফিজুরের বড় ভাই মো. হোসাইন শেখ জানান, গতকাল ছুটিতে গাজীপুর থেকে বাগেরহাট যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলেন হাফিজুর। সাধারণত জয়দেবপুর থেকে ট্রেনে করে ঢাকার কমলাপুর আসতেন তিনি। এরপর সায়েদাবাদ থেকে বাসে করে গ্রামের বাড়িতে যেতেন।

হোসাইন শেখ বলেন, আজ সকালে পুলিশের মাধ্যমে তাঁরা হাফিজুরের মৃত্যুর খবর পান। পরে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে ঢামেক হাসপাতালে তাঁর মরদেহ শনাক্ত করেন।

ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানান, কুর্মিটোলা এলাকায় ট্রেন থেকে পড়ে এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তবে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, নাকি তিনি ট্রেন থেকে পড়ে গেছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ময়নাতদন্তের জন্য হাফিজুরের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত