Ajker Patrika

অজু ছাড়া দরুদ পাঠ করা কি জায়েজ

তাসনিফ আবীদ
অজু ছাড়া দরুদ পাঠ করা কি জায়েজ
আল-আজহার মসজিদ, কায়রো, মিসর। ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে চলতে-ফিরতে, কাজের ফাঁকে কিংবা মহানবী (সা.)-এর নাম শুনলে আমরা প্রায়ই দরুদ পাঠ করে থাকি। কিন্তু অনেক সময় অজু না থাকায় অনেকের মনে সংশয় জাগে, অজু ছাড়া কি দরুদ পড়া যাবে? দরুদ পাঠের জন্য অজু থাকা কি বাধ্যতামূলক?

অজু ছাড়া দরুদ পাঠের বিধান: ইসলামের বিধান অনুযায়ী, অজু ছাড়াও যেকোনো দরুদ শরিফ পাঠ করা সম্পূর্ণ জায়েজ। দরুদ পড়ার জন্য পূর্বশর্ত হিসেবে অজু থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

আমরা যখন মহানবী (সা.)-এর পবিত্র নাম বলা কিংবা শোনার পর ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলি, সেটাও কিন্তু একটি দরুদ। এই ছোট দরুদটি কিংবা অন্য যেকোনো সংক্ষিপ্ত বা দীর্ঘ দরুদ (যেমন দরুদে ইবরাহিম) পড়ার জন্য অজু থাকা শর্ত নয়। অজু ছাড়া বা পবিত্র অবস্থায় যেকোনো সময় মুখস্থ দরুদ ও জিকির-আজকার করা যায়।

দরুদ পাঠের উত্তম পদ্ধতি: অজু ছাড়া দরুদ পড়া জায়েজ হলেও, ইসলামি স্কলার ও ফকিহগণ সর্বদা একটি বিশেষ শিষ্টাচারের প্রতি নজর দিতে পরামর্শ দেন।

আলেমদের মতে, সব সময় অজু অবস্থায় থাকা এবং অজু করে যেকোনো দোয়া ও দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত উত্তম ও সওয়াবের কাজ। পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর জিকির ও নবীজির ওপর দরুদ পাঠ করলে তার মর্যাদা ও বরকত বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এ জন্য আলেমরা অজুসহকারে দরুদ ও দোয়া পড়ার জন্য উৎসাহিত করে থাকেন। (মাবসুতুস সারাখসি: ২/২৬, ফাতহুল বারি: ১/৩৪৩, ফাতাওয়ায়ে রশিদিয়া: ২৫৩)

সংক্ষেপে বলা যায়, অজু না থাকলেও আপনি যেকোনো সময়, বাসে-ট্রেনে চলাচলের সময় কিংবা কাজের ফাঁকে দরুদ শরিফ পাঠ করতে পারবেন। এতে কোনো গুনাহ হবে না, বরং দরুদের সওয়াব পাওয়া যাবে। তবে সম্ভব হলে অজু বানিয়ে দরুদ ও দোয়া পাঠ করাই সবচেয়ে বরকতপূর্ণ ও উত্তম মাধ্যম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত