Ajker Patrika

হাদির নাম মুছে আগের নামেই ফিরছে ঢাবির ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’

ঢাবি প্রতিনিধি
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৩১
হাদির নাম মুছে আগের নামেই ফিরছে ঢাবির ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’
হলটির মূল ফটকে লেখা ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামফলক মুছে সেখানে আগের নাম ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেটে আবারও আগের নামফলক ফিরছে। হলটির মূল গেটে লেখা ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামফলক মুছে সেখানে পুনরায় ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখা হবে বলে জানা গেছে।

আজ বুধবার দুপুরে শেখ মুজিবুর রহমান হলের মূল ফটকে থাকা ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি মুছে ফেলার কাজ শুরু হতে দেখা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) মো. মুসলিমুর রহমান।

মো. মুসলিমুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নাম পরিবর্তনের দাবি জানাই। তখন প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে হাদি ভাইয়ের হত্যার পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর নাম লেখার দাবি আসে।’

মুসলিমুর বলেন, ‘আজ নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আমি ফেসবুকে দেখতে পাই। পরে হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, এই হলের অফিশিয়াল নাম এখনো আগের নামেই আছে। সিন্ডিকেট থেকে আবার পরিবর্তন করা হলে সে অনুযায়ী নামকরণ করা হবে।’

হলের নামকরণ নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান সম্পর্কে মুসলিমুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো ফ্যাসিবাদের নামে হলের নামকরণের পক্ষে নই। এ বিষয়ে আমরা উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলব এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলাম। এ কারণে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবগত নই। তবে বিষয়টি জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখেছি, সেখানে (হল গেটে) এখনো নতুন কোনো নাম লেখা হয়নি। বর্তমানে হলে পরিচ্ছন্নতার কাজ, দোকানের সামনের ঢালাই ও অন্যান্য সংস্কারকাজ চলছে। এসব কাজের অংশ হিসেবেই সেখানে কিছু পরিবর্তন করা হচ্ছে কি না, সেটিও আমি বিস্তারিতভাবে জেনে দেখছি।’

নামফলক থেকে নাম মোছার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন গণমাধ্যমকে বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হল নামটি শিক্ষার্থীরা লিখেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নামের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তাই হল প্রশাসন আগের নামটিই প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

যেভাবে নাম পরিবর্তনের শুরু

৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে হলটির নাম পরিবর্তনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রথমে ‘কাজী নজরুল ইসলাম হল’ লেখা একটি ব্যানার টাঙানো হয়। পরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর তাঁর নামে হলটির নামকরণের দাবি ওঠে।

এরপর হল সংসদের পক্ষ থেকে হলটির নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় হলের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরও সংগ্রহ করা হয়।

নাম পরিবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্য পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও সিনেটের প্রক্রিয়ায় যায়। গত ২৯ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা কয়েকটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিষয়টি আবার সিন্ডিকেটে পাঠানোর কথা জানানো হয়।

এর প্রতিবাদে ওই সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর পাঁচ সদস্য—ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মাহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ ও সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।

এদিকে আজ হলের ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি মুছে আবার ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম লেখার কাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত