Ajker Patrika

নাসার নজরুলের গুলশানের জমিসহ বাড়ি ক্রোক চায় ইউসিবিএল, আদালতের নোটিশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
নাসার নজরুলের গুলশানের জমিসহ বাড়ি ক্রোক চায় ইউসিবিএল, আদালতের নোটিশ
নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ১০৮ কোটি ঋণ খেলাপি থাকায় নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের গুলশানের একটি বাড়ি কেন ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানাতে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল এই নোটিশ জারি করার নির্দেশ দেন ঢাকার অর্থ ঋণ আদালত-৫ এর বিচারক আসিফ এলাহী।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দেন। আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান ব্যাংকের আইনজীবী সরোজ চ্যাটার্জি বাপ্পা।

যে বাড়ি ক্রোক চেয়ে আবেদন করা হয়েছে, সেটি রাজধানীর গুলশান মডেল টাউন আবাসিক এলাকার এস ই (ডি) ব্লকের ৩ নম্বর প্লটের বাড়ি। এক বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটিতে বর্তমানে সিটি ব্যাংক লিমিটেড প্রধান কার্যালয় রয়েছে।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের আবেদনে বলা হয়েছে, নাসার গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার নাসা তাই পেয়েই টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডেরও চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ওই টেক্সটাইল মিলসের নামে নজরুল ইসলাম ৯০ কোটি টাকার মতো ঋণ নেন। সেই ঋণ পরিশোধ না করায় এ বছর ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ১০৭ কোটি ৮৬ লাখ ১৯ হাজার ১৪৯ টাকা ৯৩ পয়সা খেলাপি হন। ওই টাকা উদ্ধারের জন্য ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তাঁর টেক্সটাইল মিলসের নামে অর্থ ঋণ আইনে মামলা দায়ের করেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক বিশ্বস্ত সূত্র জানতে পেরেছে নজরুল ইসলাম মজুমদার তার গুলশানের সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রি বা হস্তান্তর করার চেষ্টা করছেন। বিক্রি বা হস্তান্তর করলে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক নজরুল ইসলাম মজুমদারের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করতে পারবে না। এমতাবস্থায় তার ওই সম্পত্তি মামলার রায়ের আগেই ক্রোক করা প্রয়োজন।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ আদেশ ৫ নিয়মসহ অর্থ ঋণ আইনের ৫৭ ধারা মতে তফসিলভুক্ত সম্পত্তি রায়ের পূর্বে ক্রোকের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানাতে বিবাদীদের (নজরুল ইসলামসহ চারজন) আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেওয়া হোক।

জানা গেছে, কিছু সম্পত্তি বন্ধক রেখে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ঋণ নেন নজরুল ইসলাম মজুমদার। যেসব সম্পত্তি বন্ধক রাখা হয়েছিল সে সম্পত্তির মূল্য নজরুল ইসলামের খেলাপি ঋণের সমান হবে না। এই কারণেই রায়ের আগে গুলশানের বাড়িটি ক্রোকের আবেদন করা হয়েছে।

তাই কারণ দর্শানোর পাশাপাশি আদালত আদেশে বন্ধকি সম্পত্তি সরেজমিন পরিদর্শন করে বন্ধকি সম্পত্তির দৃশ্যমান স্থানে মামলার তথ্য সংবলিত চারটি সাইনবোর্ড স্থাপন, স্থিরচিত্র ধারণ ও বন্ধকি সম্পত্তির হালনাগাদ মূল্যায়ন করে তার প্রতিবেদন দাখিল করতে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১ অক্টোবর নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গুলশান থেকে আটক করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাকে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে মৃত্যু ও হত্যাচেষ্টা ঘটনায় দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত