Ajker Patrika

‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ সাভারে এখনো পোড়ানো হচ্ছে ইট

  • ১৭ আগস্ট সরকার সাভারকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে।
  • পরিপত্র অনুসারে, এই উপজেলায় ইট পোড়ানো একেবারে নিষিদ্ধ।
  • কয়েকটি ভাটা আদালতের অনুমতি নেওয়ায় বিপাকে পরিবেশ অধিদপ্তর।
অরূপ রায়, সাভার 
সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে সাভার পৌরসভার নামা গেন্ডা এলাকার মেসার্স কর্ণফুলী সুপার ব্রিকসে পোড়ানো হচ্ছে ইট। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পরও অনেকে আবার মেরামত করে ভাটা চালাচ্ছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা
সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে সাভার পৌরসভার নামা গেন্ডা এলাকার মেসার্স কর্ণফুলী সুপার ব্রিকসে পোড়ানো হচ্ছে ইট। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পরও অনেকে আবার মেরামত করে ভাটা চালাচ্ছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর বায়ুদূষণরোধে সরকার সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে উপজেলাটিতে সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানো ও প্রস্তুতের কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

তবে সাভারে অনেক ইটভাটার মালিক এই আদেশ অমান্য করে ভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অনেকে আবার অভিযান ঠেকাতে আদালতের অনুমতি নিয়ে ইট পোড়াচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের জুন মাসের তথ্য অনুযায়ী, সাভার উপজেলায় বৈধ ইটভাটা ছিল ৫৯টি আর অবৈধ ইটভাটা ২৭টি। শুষ্ক মৌসুমে এসব ইটভাটার দূষিত বায়ু ঢাকা শহরে ঢুকে শহরের বায়ুদূষণের তীব্রতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। দূষিত বায়ু ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এ কারণে বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এর ক্ষমতাবলে ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট সরকার সমগ্র সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করেছে। পরিপত্র অনুযায়ী, ডিগ্রেডেড এয়ারশেড-ঘোষিত এলাকায় সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানো ও ইট প্রস্তুতের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তবে সরকারের এই পরিপত্র উপেক্ষা করে সাভারের আশুলিয়া বাজারের অদূরে তুরাগতীরে আশুলিয়া ব্রিকস ও এমসিবি ব্রিকসে ইট পোড়াতে দেখা যায়। ইটভাটা দুটিতে এবারের মৌসুমের শুরু থেকে ইট পোড়ানো হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।

গত বৃহস্পতিবার আশুলিয়া ব্রিকসে গিয়ে কয়েক শ শ্রমিককে কাঁচা ইট তৈরি করতে দেখা যায়। এ সময় বেশ কয়েকজন শ্রমিক রিকশা-ভ্যানে করে কয়েক দিন আগে তৈরি করা কাঁচা ইট চুল্লির এক পাশে নিয়ে সাজাচ্ছিলেন। অনেকে আবার চুল্লির অন্য পাশ থেকে পোড়া ইট বের করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া ব্রিকসের ব্যবস্থাপক মো. মধু মিয়া বলেন, ‘সরকার সরকারের কাজ করেছে, আর আমরা আমাদের কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে থেকে লেবারসহ অন্যান্য খাতে অনেক টাকা খরচ করে ফেলেছি। ভাটা না চালালে ওই সব টাকা ওঠানো সম্ভব হতো না। তাই বাধ্য হয়ে ভাটার কার্যক্রম চালু রাখতে হয়েছে। ভাটা চালু রাখার জন্য অনেক পক্ষের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। তারাও ভরসা দিয়েছে।’

এমসিবি ব্রিকসে গিয়ে মালিক বা কোনো কর্তৃপক্ষ পাওয়া যায়নি। কর্মরত শ্রমিকেরা তাঁদের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। নাম প্রকাশ না করে এক শ্রমিক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা সিজনের শুরু থিকাই কাজ করতাচি। মাজেমদ্যে অফিসাররা আহে। টেকা দিলেই চইলা যায়, কিছু কয় না।’

সাভার উপজেলা পরিষদের উল্টো দিকে গেন্ডা-সাধাপুর সড়ক ধরে সাধাপুরের দিকে কয়েক শ গজ এগোলেই পৌরসভার নামা গেন্ডা এলাকায় সড়কের দুই পাশে দুটি ইটভাটা চোখে পড়ে। মেসার্স শারমিন এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স কর্ণফুলী সুপার ব্রিকস নামের ওই ইটভাটা দুটিতে আদালতের অনুমতি নিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে বলে ভাটামালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

গেন্ডা-সাধাপুর সড়ক থেকে কয়েক শ ফুট দূরে মেসার্স কর্ণফুলী সুপার ব্রিকসে ঢুকতেই একটি নোটিশ চোখে পড়ে। যেখানে লেখা রয়েছে, ‘মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট অত্র ইটভাটার মালিকের দায়েরকৃত রিট পিটিশন নম্বর -১৮৮৭০/২০২৫-এ প্রদত্ত আদেশমূলে অত্র ইটভাটার কার্যক্রম বিঘ্ন না ঘটানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিনীত অনুরোধ রইলো।’ একই রকম নোটিশ পাওয়া যায় গেন্ডা-সাধাপুর সড়কসংলগ্ন মেসার্স শারমিন এন্টারপ্রাইজে গিয়েও।

মেসার্স শারমিন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালেক মিয়া বলেন, ‘সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করায় মেসার্স কর্ণফুলী সুপার ব্রিকসহ আমরা কয়েকটি ইটভাটার মালিক সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ইট পোড়ানোর অনুমতি পেয়েছি। তবে এর পরেও মাস দুয়েক আগে পরিবেশ অধিদপ্তর আমার ভাটায় অভিযান চালিয়ে চিমনি ভেঙে দেয়। পরে চিমনি মেরামত করে ইট পোড়াচ্ছি।’

সাভারের আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে ৪ নম্বর ডাইভারশনে নামলেই পরিবেশ অধিদপ্তরের গণবিজ্ঞপ্তি চোখে পড়বে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ওই গণবিজ্ঞপ্তির ২০০ ফুটের মধ্যে রয়েছে এআইএম ব্রিকস ও মেমার্স কফিল ব্রিকস। ভাটা দুটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইট পোড়ানো হচ্ছে সাভারের বিলামালিয়া এলাকার মেসার্স রনি ব্রিকসে। এই ইটভাটার সামনেও হাইকোর্টে রিটসংক্রান্ত নোটিশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

রনি ব্রিকসের মালিক মোহাম্মদ মুনসুর আলী বলেন, ‘আমার ভাটাটির পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স নেই। এ কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের হয়রানি থেকে বাঁচতে মাস দুয়েক আগে হাইকোর্টে রিট করে ভাটা চালানোর জন্য চার মাসের অনুমতি চেয়েছিলাম। আদালত অনুমতি দেওয়ায় ভাটার কার্যক্রম চালু রেখেছি।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, ‘সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করার পর থেকে সাভারের ইটভাটা বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। অভিযান চালিয়ে ইটভাটা ভেঙে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পরেও অনেকে আবার মেরামত করে ভাটা চালাচ্ছেন। ওই সব ইটভাটায় আবারও অভিযান চালানো হবে।’

রিট পিটিশনের বিষয়ে ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, যেসব ইটভাটার মালিকেরা রিট করে আদালতের অনুমতি নিয়ে ভাটা চালাচ্ছেন, ওই সব ভাটার বিরুদ্ধে আপাতত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নির্বাচনের পর কী করবেন ড. ইউনূস, জানাল প্রেস উইং

বাংলাদেশে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের নতুন ব্যাখ্যা দিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

৫১ বছর পর মার্কিন আকাশে ডুমসডে প্লেন, পারমাণবিক যুদ্ধের শঙ্কায় কাঁপছে সোশ্যাল মিডিয়া

নিজের চরকায় তেল দাও—মামদানিকে ভারতের তিরস্কার

বিদেশে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশে খুন হন মুছাব্বির, পাঠানো হয় ১৫ লাখ টাকা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত