Ajker Patrika

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের দেওয়া বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়: ঐক্য পরিষদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের দেওয়া বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়: ঐক্য পরিষদ
জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে শনিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের দেওয়া বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়, বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে ‘প্রকৃত দোষীদের’ চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদে বিবৃতি ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি জানান।

সমাবেশে নেতারা বলেন, একটি বিশেষ চক্র নিজেদের উদ্দেশ্য ও স্বার্থ হাসিলের জন্য শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তাঁদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা আড়াল বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

পরিষদের দাবি, হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের দেওয়া বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

নেতারা বলেন, বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ঐক্য পরিষদের নেতাদের ভাষ্য, রংপুরের হত্যাকাণ্ড শুধু স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে নয়, সারা দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি করেছে। এ ধরনের ঘটনা সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগে প্ররোচিত করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন।

সমাবেশে বক্তাদের দাবি, দেশে এখনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।

ঐক্য পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে সারা দেশে অন্তত ৪১টি আংশিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

সমাবেশে উল্লেখ করা হিসাব অনুযায়ী, এসব ঘটনায় ছয়টি হত্যাকাণ্ড ও দুটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের ১০ টি, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার, আদিবাসীদের ওপর হামলার পাঁচটি এবং বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ১০টি ঘটনা ঘটেছে।

‘রংপুরের হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক: চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে সংখ্যালঘুদের মুক্তি মিলবে কোন পথে’—এই স্লোগানসংবলিত ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। পরে অর্ধশতাধিক সংখ্যালঘু নাগরিকের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও। যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কাজল দেবনাথ, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, মিলন কান্তি দত্ত, ডিএন চ্যাটার্জী, সাংবাদিক বাসুদেব ধর, মনীন্দ্র কুমার নাথ, জয়ন্তী রায়, পদ্মাবতী দেবী, অ্যাডভোকেট অপূর্ব ভট্টাচার্য, সাংবাদিক পুলক ঘটক, অতুল মণ্ডল, দিপালী চক্রবর্তী, তাপস দাস ও দিপংকর চন্দ্র শীলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত