Ajker Patrika

সরকারি চিকিৎসক না হয়েও সদর হাসপাতালে প্র্যাকটিস, রোগীও টানেন ব্যক্তিগত চেম্বারে

মাহেরাব্বিন সানভী, চুয়াডাঙ্গা
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ২১
সরকারি চিকিৎসক না হয়েও সদর হাসপাতালে প্র্যাকটিস, রোগীও টানেন ব্যক্তিগত চেম্বারে
ডা. ফারুক হোসেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

সরকারি চিকিৎসক না হয়েও চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর হাসপাতালে বিশেষ সুবিধায় প্র্যাকটিসের সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডা. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, গত তিন বছর ধরে হাসপাতালের একটি এসি কক্ষে তিনি রোগী দেখছেন এবং সেখান থেকেই নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী টেনে নিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা শহরের বাসিন্দা ডা. ফারুক হোসেন এমবিবিএস পাস করেছেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ থেকে। সদর হাসপাতালের সামনেই তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বার রয়েছে। তিনি সরকারি কোনো চিকিৎসক নন। এমনকি তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকও নন। অথচ তৎকালীন আ.লীগ এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দারের নির্দেশনায় ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে তিনি এখানে রোগী দেখে যাচ্ছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে জেলার বেসরকারি চিকিৎসকেরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ বিবেচনায় বিনা পারিশ্রমিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আগ্রহ দেখালেও শুধু ফারুক হোসেনই এ সুযোগ পেয়েছেন।

শুধু তাই নয়, সদর হাসপাতালে নিয়োগপ্রাপ্ত চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি চিকিৎসক ডা. ফারুক হোসেনকে একটি এসি কক্ষ দেওয়া হয়েছে। এই সুযোগ ব্যবহার করে তিনি সদর হাসপাতাল থেকে নিজের ব্যক্তিগত চেম্বার ‘লাভলী টাওয়ারে’ রোগী নিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ফারুক হোসেন বসেন কোন এখতিয়ারে? কেন তাঁর জন্য একটি কক্ষ রাখা হয়েছে? বেসরকারি চিকিৎসক তো সদর হাসপাতালে রোগী দেখতে পারেন না। এটা আইনবহির্ভূত। সরকারি হাসপাতালের পরিচয় বহন করে নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী টেনে নিয়ে যান তিনি। আর সদর হাসপাতালে একজন সরকারি চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ আছেন, তারপরও ফারুক হোসেন কোন যোগ্যতায় সদর হাসপাতালে রোগী দেখেন?’

আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক বলেন, ‘ফারুক হোসেন তো ব্যবসা করছেন। তিনি তাঁর নিজের হাসপাতালে রোগী টানার জন্য সদর হাসপাতালকে ব্যবহার করছেন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে বাজে আচরণও করেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. ফারুক হোসেন নিজের পক্ষে কথা বলেন। কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও তিনি দাবি করেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক স্যারের লিখিত অর্ডার আছে।’ লিখিত চিঠির কপির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি আসবেন? আপনি আসেন, আপনাকে দেখাব। দেখানোর আগে আপনাকেও তো দেখতে হবে।’

এদিকে, সরকারি চিকিৎসক না হয়েও ডা. ফারুক হোসেনের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগী দেখার বিষয়ে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত