Ajker Patrika

উগ্রবাদী সমাজ টিকবে না: সংস্কৃতিমন্ত্রী

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি­
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ১০
উগ্রবাদী সমাজ টিকবে না: সংস্কৃতিমন্ত্রী
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: আজকের পত্রিকা

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, দেশে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী রয়েছে, যারা মানুষের সবকিছুর মধ্যে ত্রুটি খোঁজে। তবে বাংলাদেশের মানুষ প্রকৃতিগতভাবে প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক হওয়ায় এই উগ্রবাদী সমাজ টিকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজ রোববার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও দপ্তরপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন মন্ত্রী।

সভায় বিভিন্ন অপরাধ নির্মূলের বিষয়ে আলোকপাত করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের বিভিন্ন অনিয়ম রুখতে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এখানে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী আছে। যারা মানুষের সবকিছুর মধ্যে ত্রুটি ধরে। কিন্তু এই উগ্রবাদী সমাজ টিকবে না, কারণ এ দেশের মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক। বাংলাদেশের সমাজের গভীরে যে অসাম্প্রদায়িকতা রয়েছে, তাকে তো জোর করে মুছে দেওয়া যাবে না।’

বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের উপদেষ্টাদের দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, সার্বিক বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে দাবি করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে সব দলের নির্দিষ্ট ইশতেহার ছিল। বিএনপিও তাদের ইশতেহার জনগণের সামনে তুলে ধরেছে।

দেশ একটি অন্ধকার যুগ পেরিয়ে এসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশে অন্ধকার যুগ কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়, কখনো ক্ষণস্থায়ী হয়। আমরা একটি অন্ধকার যুগ পেরিয়ে এসেছি।’

বাংলাদেশের খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। অর্থনৈতিক ও জীবনব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

মাদকদ্রব্যের বিস্তার ও আমদানি, অপরাধপ্রবণতা, নারী-শিশুর আত্মহত্যা বৃদ্ধিসহ নানা সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, হতাশার কোনো কারণ নেই। সব সমস্যার মূল হলো অর্থনৈতিক সমস্যা।

সমাজের ধ্যান-ধারণা, মূল্যবোধ, আচরণ, মানসিকতা ও মানুষের পথ অর্থনীতি নির্ধারণ করে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনা গেলে এসব প্রবণতা কমে যাবে বলেও তিনি জানান।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: আজকের পত্রিকা
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: আজকের পত্রিকা

কৃষকদের বিনা মূল্যে পানি, স্বল্পমূল্যে সার ও ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্ষার পানি ধরে রাখা, নদী খনন করে দুই পাশে কপাট সিস্টেম করা এবং খাল খননের মাধ্যমে বিলে পানি সরবরাহ করা গেলে কৃষকেরা বিনা মূল্যে পানি পাবেন।

নারীর আত্মহত্যার কারণ সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা হতে পারে উল্লেখ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সমাজের অর্ধেক নারী হলেও সমাজব্যবস্থায় মূল নেতৃত্ব পুরুষের। শিক্ষিত বা অশিক্ষিত—সব নারীকেই যেন দাসীর মতো থাকতে হয়।

নারীদের স্বাবলম্বী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতি পরিবারের গৃহিণীর জন্য এ কার্ড থাকবে। তাঁরা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পাবেন এবং প্রয়োজনে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারবেন।

গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে নতুন পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং প্রায় সবাই কৃষিনির্ভর। ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, তাঁতের শাড়ি, নকশিকাঁথাসহ বিভিন্ন উদ্যোগকে সমর্থন দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

সুস্থ সংস্কৃতির ধারা আনার কথা জানিয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জীবনমুখী ও সংগ্রামমুখী সংস্কৃতির মাধ্যমে জীবনের কথা বলা হবে। নৌকাবাইচ, হাডুডু, জীবনমুখী যাত্রাশিল্প, জারি-সারি, হাসন রাজা ও লালন শাহর গানসহ সব ধরনের ঐতিহ্য এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

দেশে সার ঠিকমতো বণ্টন হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তবে সব কৃষক কার্ড ইস্যু হওয়ার পর কার্ডের তথ্য অনুযায়ী সার বণ্টন করা হলে সংকট থাকবে না বলে জানান তিনি।

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের প্রসঙ্গে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসদে যুগান্তকারী বক্তব্য দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাঁধনের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার ন্যায়বিচার হবে। দেশে ও দেশের বাইরে শিল্পীদের হেনস্তার ঘটনায় সরকার কখনো দায় এড়াতে চায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান, চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা অংশ নেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত