Ajker Patrika

ব্যাংকের ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
ব্যাংকের ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চট্টগ্রামের জুবিলী রোড শাখা থেকে আরামিট সিমেন্টের নামে ২৭টি ভুয়া বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ মঙ্গলবার দুদকের চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করা হয়। দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন মামলাটি করেন। এজাহার অনুযায়ী, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের নভেম্বরের মধ্যে জালিয়াতির ঘটনাগুলো ঘটে।

মশিউর রহমান বলেন, ‘সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও অন্যরা আরামিটের এজিএম জাহাঙ্গীর আলমকে সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ী দেখিয়ে ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবিলী রোড শাখা থেকে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, আরামিট সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম এবং ইসলামী ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখার একাধিক কর্মকর্তা।

দুদকের এজাহারে বলা হয়, ২০১৭ সালে আরামিট সিমেন্টের জন্য ৩৫০ কোটি টাকার কার্যকরী মূলধন ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে ৫৪টি বাই-মুরাবাহা চুক্তির মাধ্যমে ২০৫ কোটি ৭ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ২৭টি চুক্তির মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আরামিট গ্রুপের হিসাব বিভাগের এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ক্লাসিক ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখানো হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে আরামিট সিমেন্টের কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে এর কোনো কার্যক্রম ছিল না বলে দাবি করেছে দুদক।

এজাহার অনুযায়ী, ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের নামে উল্লেখ করা ঠিকানায় কোনো কার্যালয় বা গুদামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি-রপ্তানিরও কোনো প্রমাণ মেলেনি।

দুদকের অভিযোগ, ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর, স্ল্যাগসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহের দাবি করে জাল চালান ও ভুয়া নথিপত্র ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। বাস্তবে কোনো পণ্য সরবরাহ না করা হলেও ব্যাংক কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই ছাড়াই এসব লেনদেন প্রক্রিয়া করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, পরে ক্লাসিক ট্রেডিংসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করে তা শেষ পর্যন্ত আরামিট সিমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোতে জমা করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের প্রধান কার্যালয় গত ১৯ অক্টোবর মামলাটির অনুমোদন দেয়। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইসলামী ব্যাংক পিএলসির জুবিলী রোড শাখার ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া আরামিটের সঙ্গে বিনিয়োগের কথা স্বীকার করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত