Ajker Patrika

১০০ ফুট খালে ৩৬ ফুট সেতু, এক দশকেও হয়নি সংযোগ সড়ক

ইউসুফ আরফাত, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
১০০ ফুট খালে ৩৬ ফুট সেতু, এক দশকেও হয়নি সংযোগ সড়ক
ফটিকছড়ির পশ্চিম ত্রিপুরাপাড়ায় সেতুটি প্রায় এক দশক ধরে অকেজো পড়ে আছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম আঁধার মানিক পশ্চিম ত্রিপুরাপাড়ায় একটি সেতু প্রায় এক দশক ধরে অকেজো পড়ে আছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি স্থানীয়দের কাছে এখন ‘অপ্রয়োজনীয় স্থাপনা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রায় ১০ বছর আগে ফটিকছড়ি খালের ওপর ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর থেকেই সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি কোনো কাজে আসছে না। বরং খাল পার হতে গিয়ে ছয়টি পাড়ার কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কাজটি পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স তৈয়ব এন্টারপ্রাইজ। নির্ধারিত সময়েই নির্মাণ শেষ হলেও প্রথম বছরেই বন্যার পানিতে সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এরপর আর তা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, খালের ওপর পাকা সেতুটি দাঁড়িয়ে থাকলেও দুই প্রান্তে চলাচলের উপযোগী সড়ক নেই। এক পাশে উঁচু কংক্রিটের অংশ, অন্য পাশে ভাঙা মাটি ও ঝোপঝাড়। ফলে সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা।

এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল পশ্চিম আঁধার মানিক, উজানপাড়া, টিলাপাড়া, দবলী ছাড়াকুল, মাঝেরপাড়া ও নামারপাড়াসহ অন্তত ছয়টি পাড়ার মানুষ। বাধ্য হয়ে তারা বাঁশের সাঁকো, অস্থায়ী ঘাট কিংবা সরু পথ ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হচ্ছেন। শিব ও কালীমন্দিরে যাতায়াতকারী ভক্তদেরও একইভাবে পারাপার হতে হচ্ছে।

ফটিকছড়ির পশ্চিম ত্রিপুরাপাড়ায় সেতুটি প্রায় এক দশক ধরে অকেজো পড়ে আছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
ফটিকছড়ির পশ্চিম ত্রিপুরাপাড়ায় সেতুটি প্রায় এক দশক ধরে অকেজো পড়ে আছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্থানীয় বাসিন্দা বিরেন্দ্র মাঝি বলেন, ‘সেতু আছে, কিন্তু কোনো কাজে লাগে না। বর্ষাকালে খাল পার হওয়া খুবই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।’

মাধুরী ত্রিপুরা (৬৫) বলেন, ‘বয়স্ক মানুষের জন্য খাল পারাপার কষ্টকর। সেতুটি ব্যবহার করা গেলে বাজার করা ও পণ্য আনা-নেওয়া সহজ হতো।’

কৃষক মো. হোসেন ও বিরেন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও খরচ হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনাহীনভাবে সেতু নির্মাণ করায় সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কোনো সুফল মেলেনি।

হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সমস্যাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে খালের তুলনায় সেতুটি ছোট হওয়ায় নতুন করে পরিকল্পিত সেতু নির্মাণের কথাও ভাবা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত