Ajker Patrika

মিলাদুন্নবী (সা.)-এর অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেয়ে চাঁদা দাবি, পরে হামলার অভিযোগ

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০: ৪৫
মিলাদুন্নবী (সা.)-এর অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেয়ে চাঁদা দাবি, পরে হামলার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাউজানে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে পারিবারিকভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খাবার খেয়ে দাবি করে বসেন চাঁদা। দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে আয়োজকদের ওপর হামলা, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল যুবকের বিরুদ্ধে।

রোববার বিকেলে উপজেলার জানিপাথরের পাঁচপুকুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘটনায় চার নারী আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন মফিজুর রহমানের স্ত্রী সাদিয়া আকতার (২৫) এবং তাঁর বোন মরিয়ম বেগম (২০), ফুফাতো বোন মনি আকতার (২৬) এবং চাচাতো বোন মাহি আকতার ( (১৯)। এ ঘটনায় মফিজুর রহমান বাদী হয়ে রাউজান থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২২ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মফিজুর রহমান নিজ বাড়িতে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মাহফিল ও কয়েক শ লোকের জন্য খাবার আয়োজন করেন। এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে পার্শ্ববর্তী এলাকার মো. রুবেল (২৭), নুরু ছালাম (৩৫), মো. ইকবাল (৪০), চাপ্পিয়ে (২৫), মো. ফারুকসহ (৩০) অপরিচিত ২০-২২ জন অংশ নেন। খাওয়াদাওয়া শেষে বেলা ৩টার দিকে অভিযুক্ত রুবেল ও তাঁর সঙ্গীরা আয়োজক মফিজুর রহমানের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে রুবেল তাঁকে গালাগাল করেন এবং মারধর করতে উদ্যত হন। স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে তাঁরা সটকে পড়েন।

পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে অভিযুক্ত রুবেল তাঁর মেবাইল ফোন থেকে কল দিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন এবং হুমকি দেন। এর কিছু সময় পর অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে মফিজুর রহমানের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। এ সময় মফিজুরের পরিবার সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে স্থায়ী ঠিকানায় (অক্সিজেন, বায়েজিদ) ফেরার উদ্দেশে বের হলে তাঁরা গতিপথ রোধ করে আবারও চাঁদা দাবি করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত রুবেল মফিজুরের চাচাতো বোন মাহি আকতারকে (১৯) শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন এবং ডাল দিয়ে পেটান। এতে তিনি মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়েছেন।

এ ঘটনায় মফিজুরের বোন মরিয়ম বেগমকে (২০) বাটামপেটা করলে তাঁর বাঁ হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে যায়। এ ছাড়া হামলাকারীরা ভুক্তভোগী নারীদের পরিহিত কানের দুল, হাতের আংটিসহ ১ ভরির ওপর স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এদিকে অভিযুক্ত মো. রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি দুপুরে তাঁদের বাসায় দাওয়াত খেয়েছি সত্য, এরপর কী হয়েছে, জানি না। আমি ঘটনাস্থলেও ছিলাম না। আমি ঘুমিয়েছিলাম। আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত