
চার হাজার কোটি টাকার বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচের পর এর ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রায় শেষ পর্যায়ে কাজ বন্ধ হওয়া এই প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বিআরটি চালু অথবা এটিকে সাধারণ সড়কে রূপান্তর বা টোল সড়ক করার প্রস্তাব দিয়েছেন। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় এসব প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে। উপস্থাপন করা হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
এদিকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গঠিত কোম্পানি ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি (ডিবিআরটিপিএলসি) বিআরটির অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে টিকে থাকতে কাজের বিকল্প খুঁজছে। এর অংশ হিসেবে সরকারি এই কোম্পানি ঢাকার বাস পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে প্রস্তাবিত বাসনেট (BUSNET) কোম্পানির দায়িত্ব নিতে চেয়েছে।
মানুষের যাতায়াত দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যের কথা বলে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিশেষ বাসের জন্য বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল ২০১২ সালে। প্রকল্পে বিশেষ লেনে বিশেষ ধরনের বাস চলাচলের কথা বলা হয়েছিল। এই প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল চার বছর। কিন্তু মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তি দেওয়া এই প্রকল্প বারবার মেয়াদ বাড়িয়েও দীর্ঘ এক যুগেও শেষ হয়নি। ব্যয়ও বেড়েছে ধাপে ধাপে। প্রকল্পের আওতায় এই পথে ২৫টি স্টেশন এবং পৃথক লেন বা করিডর নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। এরপরও প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।
প্রকল্প সূত্র বলছে, বিআরটি প্রকল্পের জন্য প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। পরে তা কয়েক দফায় বেড়ে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা হয়। প্রকল্পের কাজ বন্ধ হওয়ার আগে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা করে। তাঁরা বলেছিলেন, ভবিষ্যতে কোনো সরকার চাইলে এই প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পরে বিআরটি করিডর সাধারণ যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সরকার গঠনের পর বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে পর্যালোচনা চলছে। প্রকল্পটির নকশা, স্টেশন ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কাঠামো এবং যাত্রীসেবার বিষয়গুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুটি বিভাগের অধ্যাপকদের মতামত নিয়েছে। এই বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকদের একপক্ষ বিআরটি প্রকল্প চালুর পক্ষে মত দিয়েছে। তাঁরা এটিকে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডর হিসেবে ব্যবহারেরও প্রস্তাব দেন। অপরপক্ষ বিআরটির স্টেশনগুলো ভেঙে ফেলে সাধারণ সড়ক করার কিংবা বিকল্প টোল সড়ক করার মতামত দিয়েছে। এসব মতামত নিয়ে সারসংক্ষেপ তৈরির কাজ করছে মন্ত্রণালয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এই প্রস্তাবগুলোর সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভায় তোলার অপেক্ষায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। ফলে বিআরটির ভবিষ্যৎ কোন কাঠামোয় এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এই পরিস্থিতিতে বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়নে গঠিত কোম্পানি ডিবিআরটিপিএলসি বিকল্প কাজ চাইছে। এ জন্য কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রস্তাবিত বাসনেট–এর দায়িত্ব নিতে আগ্রহ জানিয়ে ১২ আগস্ট ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে নতুন করে বাসনেট নামের আলাদা কোম্পানি গঠন না করে বিআরটি প্রকল্পে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও বিদ্যমান সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ডিবিআরটিপিএলসিকেই বাসনেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সম্ভাব্য কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে একটি সভা আয়োজনের অনুরোধও করা হয়েছে।
জানতে চাইলে ডিবিআরটিপিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আমিন খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিআরটি প্রকল্পের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রকল্পটি চালু, বাতিল নাকি অন্যভাবে এগোবে, তা অনিশ্চিত। তবে কোম্পানি হিসেবে আমরা পরিবহন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসার সুযোগ খুঁজছি। শুধু ‘বাসনেট’ নয়, আরও কয়েকটি বিষয়ে ডিটিসিএ–এর কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। বিষয়গুলো নিয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। আলোচনা ও বিশ্লেষণের পর সরকার সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী আমরা এগোব।’
ডিটিসিএ–এর সূত্র জানায়, ঢাকার বাস পরিবহন ব্যবস্থাপনায় ‘বাসনেট’ কী করবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ডিটিসিএ প্রণীত ‘ঢাকার সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা হালনাগাদ (ইউআরএসটিপি)’-এর স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় ঢাকার বাস পরিবহন ব্যবস্থার ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক কাঠামো সংস্কারের জন্য ‘বাসনেট’ নামে একটি বিশেষায়িত কোম্পানি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠান বাস অপারেটরদের সঙ্গে চুক্তি করবে, ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় করবে, অপারেটরদের কার্যক্রম তদারকি করবে এবং ক্লিয়ারিং হাউসের (রাজস্ব নিষ্পত্তি কেন্দ্র) মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্ব বণ্টন করবে। পাশাপাশি বাস অবকাঠামো উন্নয়ন, সমন্বিত বাসসেবার পরিকল্পনা ও বিপণনের দায়িত্বও থাকবে এই কোম্পানির হাতে।
অর্থাৎ, বর্তমানে বিভিন্ন মালিক ও কোম্পানির অধীনে বিচ্ছিন্নভাবে চলাচল করা বাসসেবাকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার লক্ষ্যেই বাসনেটের পরিকল্পনা। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাস মালিক বা অপারেটররা বাস পরিচালনা করলেও চুক্তি, ভাড়া আদায়, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সেবার তদারকিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকবে প্রতিষ্ঠানটি।
ডিবিআরটিপিএলসি এ ধরনের কাজের জন্য নিজেদের উপযুক্ত মনে করছে। কারণ, বিআরটি প্রকল্পের অপারেশনাল কম্পোনেন্ট বাস্তবায়নে কোম্পানিটি এরই মধ্যে বাস কেনা, বাস অপারেটর নিয়োগ, আন্তর্জাতিক দরপত্র, পরামর্শক সেবা ক্রয় এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস), অটোমেটেড ফেয়ার কালেকশন (এএফসি) বা ই-টিকেটিং ব্যবস্থা, ডিপো প্রস্তুত ও ব্যবস্থাপনা, অপারেশনাল ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজও করেছে বলে ডিটিসিএকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে।
বিআরটি পরিচালনা পর্ষদও বিআরটি ছাড়াও ভবিষ্যৎ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মপরিকল্পনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ডিটিসিএ–এর বিভিন্ন উদ্যোগে কোম্পানির সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়।
ডিবিআরটিপিএলসি মনে করছে, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন বাস অপারেটরের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয়, সরকারি নীতি বাস্তবায়ন এবং সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তারা ভূমিকা রাখতে পারবে। বড় নগর গণপরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ক্রয়, চুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও ‘বাসনেট’ পরিচালনায় কাজে লাগবে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বুয়েটের নগর এবং অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দীন হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিআরটি (ডিবিআরটিপিএলসি) কোম্পানিকে শুধু একটি প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ‘বাংলাদেশ বিআরটি কোম্পানি’ করা যেতে পারে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিআরটি চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই ও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের কাজে লাগানো হলে সেটিই বেশি কার্যকর হবে। মেট্রোর পাশাপাশি আমাদের বিআরটি–এরও প্রয়োজন আছে।’ তিনি বলেন, তাঁরা বিআরটি নিয়ে যেসব সুপারিশ দিয়েছেন সেগুলো সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সারসংক্ষেপ করে মন্ত্রিসভায় তোলা হবে বলে তাঁরা জেনেছেন।

রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তেজগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাতটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
১৮ মিনিট আগে
দেশে সারের কোনো সংকট নেই—এ বক্তব্য খোদ কৃষিমন্ত্রীর। গতকাল শনিবার দুপুরে ফরিদপুরে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তবে মাঠের চিত্র ভিন্ন; কৃষকেরা বলছেন, তাঁরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। যা পাচ্ছেন...
৫ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়ায় না গিয়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সরাসরি আদালতে গিয়ে ন্যায়বিচার ও প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। প্রস্তাবিত আইনে গুমের ধরন ও অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন থেকে ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে...
৮ ঘণ্টা আগে
পাহাড়ি ঢলে নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল লন্ডভন্ড হওয়ার পর দেশটি থেকে ভারতীয় গ্রিড হয়ে আসা ৩৮ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ কম থাকায় এই দুই উৎস থেকেও কমেছে বিদ্যুতের জোগান। ফলে মাত্র ১৫ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদা পূরণ করতে গিয়েও ঘণ্টায় আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট...
১৪ ঘণ্টা আগে