Ajker Patrika

৬ একর জমি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও জেলা প্রশাসনের বিরোধ, বরাদ্দ পেল সিটি করপোরেশন

আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম 
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০০: ১৮
৬ একর জমি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও জেলা প্রশাসনের বিরোধ, বরাদ্দ পেল সিটি করপোরেশন
বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা পরিকল্পনার নকশা। ছবি: সংগৃহীত

কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে ফিরিঙ্গী বাজার মৌজার ৬ একর জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে সেই জায়গা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে এক বছরের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মামলার নথি ও বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জায়গাটি ইজারার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। মামলা চলা অবস্থায় ইজারা দেওয়ার উদ্যোগকে বেআইনি উল্লেখ করে বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এই রুল জারি করা হয়।

এ অবস্থায় ইজারা দেওয়া থেকে পিছু হটে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে রুল জারির দেড় মাসের মাথায় গত ২০ জানুয়ারি সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জায়গাটি বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের কাছে বরাদ্দ চান। ৬ একরের ওই জায়গায় খেলার মাঠ ও পার্ক নির্মাণের কথা বলেন মেয়র।

বন্দরের বোর্ড সভার ১৯৩৯৯ নম্বর সিদ্ধান্ত মোতাবেক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে একসনা (এক বছর) বরাদ্দ দেওয়া হয় জায়গাটি। ৮ ডিসেম্বর সেটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চিঠি ইস্যু করা হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।

জায়গার মাশুল বাবদ ৮৩ লাখ টাকা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের অনুকূলে জমা দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন উপদেষ্টা বা আইন কর্মকর্তার কোনো মতামত গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমি শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (স্টেট-২) মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন বলেন, ফিরিঙ্গী বাজার মৌজার ৬ একর জমি খেলার মাঠ ও পার্ক নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশনের অনুকূলে একসনা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই জমি নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি মামলা চলছে।

এই অবস্থায় জায়গা বরাদ্দের বিষেয় জানতে চাইলে মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন বলেন, ‘সরকারি দপ্তরের ক্ষেত্রে আদালত অবমাননা হয় না।’

জেলা প্রশাসন ও বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১২ জুলাই সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এবং চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান ওই এলাকা পরিদর্শন করেন এবং নিজেদের মালিকানার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য ছিল জায়গাটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত।

জমি বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভূমি শাখার প্রধান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমরা পার্ক করার জন্য জায়গাটি বন্দরের কাছ থেকে নিয়েছি। টাকা জমা দিয়েছি। বরাদ্দপত্রটা নেওয়ার পর ৮ ডিসেম্বর জায়গাটা বুঝে নেব।’

এই জায়গা নিয়ে মামলার বিষয়টি জানতে চাইলে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বন্দর আমাদের লিজ দিচ্ছে। মামলা মোকদ্দমার বিষয়টি আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমি শাখার তথ্যমতে, ১৮৮৫ সালে তৎকালীন সরকার বিরোধপূর্ণ জমিটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করে। পরে ভুলবশত বিএস রেকর্ড বন্দরের নামে হয়নি। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের যুগ্ম জজ আদালত-১ একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এই বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, ‘মামলা চলা অবস্থায় এই ধরনের লিজ আদালত অবমাননার শামিল। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সতর্ক থাকা উচিত।’

কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে শিশুপার্ক ও খেলার মাঠ নির্মাণকে কেন্দ্র করে এই জমি নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরোধ মীমাংসায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি হয়েছিল। ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম বন্দর অধিশাখার উপসচিব মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিন সদস্যের এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুন্সী মনিরুজ্জামানকে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন মোংলা বন্দরের উপসচিব মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান ও উপসচিব টি এ মোহাম্মদ আমিনুর রহমান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত