Ajker Patrika

চাঁদপুরে শিক্ষা প্রশাসনে জনবল সংকট: ৮ উপজেলার ৭টিতেই গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য

চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুরে শিক্ষা প্রশাসনে জনবল সংকট: ৮ উপজেলার ৭টিতেই গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য
মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনে জনবল সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

চাঁদপুরের মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনে জনবল সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। জেলার ৮টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ৭টিতেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, হিসাবরক্ষক, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। ফলে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার নিয়মিত তদারকি, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত কাজ, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও দাপ্তরিক নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় ব্যাঘাত ঘটছে।

জেলা শিক্ষা অফিসের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ্ স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনটি ২৭ জুলাই পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে জেলার শিক্ষা অফিসগুলোর বিদ্যমান জনবল ও শূন্য পদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের তিনটি পদ শূন্য। ফরিদগঞ্জে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের পদ খালি রয়েছে।

কচুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, অফিস সহকারী ও অফিস সহায়কের পদ শূন্য। মতলব উত্তর উপজেলায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও হিসাবরক্ষকের তিনটি পদে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই।

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের পদ শূন্য। শাহরাস্তিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, অফিস সহকারী ও অফিস সহায়কের তিনটি পদ খালি রয়েছে।

হাইমচর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জনবল সংকট সবচেয়ে বেশি। সেখানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, হিসাবরক্ষক ও নিরাপত্তা প্রহরীর চারটি পদই শূন্য। হাজীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসগুলো বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রম, একাডেমিক পরিবেশ এবং বিভিন্ন সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর হিসেবে কাজ করে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক কাজে চাপ বাড়ছে।

শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত কাজ, বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি ও পাঠানো, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নসহ নানা কাজে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উপজেলা শিক্ষা অফিসের ওপর নির্ভর করতে হয়। কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় এসব কাজে ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তার পদ খালি থাকায় অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। কোনো কোনো কাজের জন্য একাধিকবার অফিসে যোগাযোগ করতে হয়। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমেও সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।

শিক্ষকদের ভাষ্য, জনবল সংকট শুধু দাপ্তরিক কাজের গতি কমাচ্ছে না; এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত তদারকিতেও। শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা পরিদর্শন এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল না থাকলে এই তদারকি কতটা কার্যকরভাবে করা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা পর্যায়ে তীব্র সংকট থাকলেও চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। জেলা শিক্ষা অফিসে একটি অফিস সহায়কের পদ শূন্য রয়েছে। তবে জেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসারসহ প্রধান পদগুলোতে জনবল কর্মরত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ্ বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ের শূন্য পদগুলোর তালিকা ইতিমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (মাধ্যমিক), কুমিল্লার উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই এসব তথ্য জানানো হয়েছে।’

মোহাম্মদ রুহুল্লাহ্ বলেন, ‘সমস্যা থাকলেও বর্তমানে যে জনবল আছে, তা নিয়েই আমাদের নিয়মিত কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত