কসবায় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া হত্যা মামলায় দুই ছেলেসহ বাবার যাবজ্জীবন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া হত্যা মামলায় বাবা ও দুই ছেলেকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অন্য ছয় আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক অসীম কুমার দে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের মোতাহার মিয়া এবং তাঁর দুই ছেলে মনির মিয়া ও কামাল মিয়া। রায় ঘোষণার সময় কামাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মোতাহার ও মনির মিয়া পলাতক রয়েছেন।
মামলা থেকে খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন কামাল মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া ও শরীফ মিয়া, কামালের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, নবীর হোসেনের স্ত্রী জিয়াসমিন এবং মনিরের স্ত্রী খাদিজা বেগম।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, নিমবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী মনির মিয়ার টাকাপয়সার লেনদেন ছিল। এ নিয়ে দুই পরিবারে মাঝেমধ্যেই বাগ্বিতণ্ডা হতো।
২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে টাকার বিষয়ে আলোচনার কথা বলে মানিক মিয়াকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর মনিরসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা মানিকের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এলোপাতাড়ি আঘাতে রক্তাক্ত মানিক মিয়াকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর মানিক মিয়ার স্ত্রী হেলেনা আক্তার ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। ২০১৯ সালের নভেম্বরে পুলিশ ১১ আসামির মধ্যে ৯ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দীর্ঘ সাত বছর সাক্ষ্য-প্রমাণ, যুক্তিতর্ক ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। অন্য আসামিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার ই আলম বলেন, ‘আশা করেছিলাম, সব আসামি বেকসুর খালাস পাবে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাদীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। যাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছে, তাঁরাই আঘাত করেছিলেন। আমরা রায়ে সন্তুষ্ট।’








