খালিদ হাসান, শিবগঞ্জ (বগুড়া)

হেমন্তে নবান্ন উৎসবে মেতেছেন বগুড়ার শিবগঞ্জের মানুষ। বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য নবান্ন উৎসব উপলক্ষে প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে উপজেলার উথুলী বাজারে বসে মেলা। স্থানীয়দের দাবি প্রায় ৪ শ বছরের পুরোনো এই মেলা। আজ রোববার ভোর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গন। এ মেলায় নতুন সবজি, মিষ্টির দোকান, কসমেটিকের দোকান ঠাঁই পেলেও প্রধান আকর্ষণ বিশাল আকৃতির বিভিন্ন জাতের মাছ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অগ্রহায়ণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবার ঘরে নতুন ধান ওঠে। এ উপলক্ষে বসে নবান্নের মেলা। এ সময় বাড়ি বাড়ি মেয়ে-জামাইসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত দেওয়া হয়। উথুলী গ্রাম ছাড়াও পার্শ্ববর্তী গরীবপুর, বেড়াবালা, বাঘমারা, গণেশপুর, চানপুর, খালিমপুর, মোকামতলাসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।
লস্করপুর গ্রামের বাসিন্দা শতবর্ষী সোলাইমান আলী বলেন, ‘আমার দাদার দাদার আমল থেকে শুনে আসছি এই মেলার কথা। প্রায় ৪ শ বছর আগে থেকে এখানে নবান্নের মেলা বসে।’
রোববার উথুলী নবান্নের মেলায় গিয়ে দেখা যায়, বিশাল এলাকা জুড়ে মাছের পসরা সাজিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন বিক্রেতারা। থরে থরে সাজানো হয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা বড় বড় রুই, কাতল, মৃগেল, বিগহেড, চিতল, সিলভার কার্প ও বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। নবান্ন উৎসবে মাছ কিনতে সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
শুধু বগুড়ার শিবগঞ্জ নয়, জয়পুরহাট, গাইবান্ধাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতারাও এ মেলায় মাছ কিনতে এসেছেন।

উথুলী পাইকপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম সাড়ে ১৪ কেজি ওজনের একটি বিগহেড মাছ কিনেছেন ৮ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর নবান্ন আসলে মাছ কেনার জন্য এই মেলায় আসি। তবে এবার মাছের দাম তুলনামূলক বেশি।’
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থেকে মাছ বিক্রির জন্য মেলায় এসেছেন আব্দুল বারী। ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিনি ৪৫ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। তিনি বলছেন, মেলায় ছোট মাছের তুলনায় বড় মাছের চাহিদাই বেশি।
আরেক মাছ বিক্রেতা ঠান্ডা মিয়া বলেন, মেলায় বড় কাতলা ও রুই প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি বিগহেড সাড়ে ৩ শ থেকে ৬০০ টাকা, সিলভার কার্প ৪৫০, মৃগেল ২৫০, পাঙাশ ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে নতুন আলু, শাকসবজি, কেশুর আলু ও পানিফল নবান্ন মেলার অন্যতম অনুষঙ্গ। মাছের মেলার পাশাপাশি এসব সবজির পসরাও সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। এ মেলায় প্রতি কেজি নতুন আলু ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি আলু ও কেশুর বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। সবজি ছাড়াও মিষ্টি, দই, চিড়া, মুড়ি–মুড়কি, কদমা, বাতাসা, নিমকি, জিলাপি, আচারসহ হরেক রকম দোকান ঠাঁই পেয়েছে। শিশুদের খেলনা ও নারীদের জন্য কসমেটিকসের দোকানও আছে। সবার বিনোদনের জন্য আছে নাগরদোলা ও নৌকা দোলনা।
ধোন্দাকোলা গ্রামের মানিক চন্দ্র বলেন, ‘মেলা থেকে কিনে আনা মাছ, নতুন আলুর তরকারি, নতুন চালের ক্ষীর ও পায়েস দিয়ে খাবার খেয়ে আমরা নবান্ন উৎসব উদ্যাপন করি।’
উথুলী ছাড়াও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে শুক্রবার ভোর থেকে বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা, মহাস্থানহাট, বুড়িগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বসেছে মাছের মেলা।
শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, নবান্নের মেলা এই এলাকার একটি বিশেষ ঐতিহ্য। গ্রামে গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মেলায় কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা যেন না হয় সে জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হেমন্তে নবান্ন উৎসবে মেতেছেন বগুড়ার শিবগঞ্জের মানুষ। বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য নবান্ন উৎসব উপলক্ষে প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে উপজেলার উথুলী বাজারে বসে মেলা। স্থানীয়দের দাবি প্রায় ৪ শ বছরের পুরোনো এই মেলা। আজ রোববার ভোর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গন। এ মেলায় নতুন সবজি, মিষ্টির দোকান, কসমেটিকের দোকান ঠাঁই পেলেও প্রধান আকর্ষণ বিশাল আকৃতির বিভিন্ন জাতের মাছ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অগ্রহায়ণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবার ঘরে নতুন ধান ওঠে। এ উপলক্ষে বসে নবান্নের মেলা। এ সময় বাড়ি বাড়ি মেয়ে-জামাইসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত দেওয়া হয়। উথুলী গ্রাম ছাড়াও পার্শ্ববর্তী গরীবপুর, বেড়াবালা, বাঘমারা, গণেশপুর, চানপুর, খালিমপুর, মোকামতলাসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।
লস্করপুর গ্রামের বাসিন্দা শতবর্ষী সোলাইমান আলী বলেন, ‘আমার দাদার দাদার আমল থেকে শুনে আসছি এই মেলার কথা। প্রায় ৪ শ বছর আগে থেকে এখানে নবান্নের মেলা বসে।’
রোববার উথুলী নবান্নের মেলায় গিয়ে দেখা যায়, বিশাল এলাকা জুড়ে মাছের পসরা সাজিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন বিক্রেতারা। থরে থরে সাজানো হয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা বড় বড় রুই, কাতল, মৃগেল, বিগহেড, চিতল, সিলভার কার্প ও বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। নবান্ন উৎসবে মাছ কিনতে সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
শুধু বগুড়ার শিবগঞ্জ নয়, জয়পুরহাট, গাইবান্ধাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতারাও এ মেলায় মাছ কিনতে এসেছেন।

উথুলী পাইকপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম সাড়ে ১৪ কেজি ওজনের একটি বিগহেড মাছ কিনেছেন ৮ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর নবান্ন আসলে মাছ কেনার জন্য এই মেলায় আসি। তবে এবার মাছের দাম তুলনামূলক বেশি।’
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থেকে মাছ বিক্রির জন্য মেলায় এসেছেন আব্দুল বারী। ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিনি ৪৫ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। তিনি বলছেন, মেলায় ছোট মাছের তুলনায় বড় মাছের চাহিদাই বেশি।
আরেক মাছ বিক্রেতা ঠান্ডা মিয়া বলেন, মেলায় বড় কাতলা ও রুই প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি বিগহেড সাড়ে ৩ শ থেকে ৬০০ টাকা, সিলভার কার্প ৪৫০, মৃগেল ২৫০, পাঙাশ ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে নতুন আলু, শাকসবজি, কেশুর আলু ও পানিফল নবান্ন মেলার অন্যতম অনুষঙ্গ। মাছের মেলার পাশাপাশি এসব সবজির পসরাও সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। এ মেলায় প্রতি কেজি নতুন আলু ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি আলু ও কেশুর বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। সবজি ছাড়াও মিষ্টি, দই, চিড়া, মুড়ি–মুড়কি, কদমা, বাতাসা, নিমকি, জিলাপি, আচারসহ হরেক রকম দোকান ঠাঁই পেয়েছে। শিশুদের খেলনা ও নারীদের জন্য কসমেটিকসের দোকানও আছে। সবার বিনোদনের জন্য আছে নাগরদোলা ও নৌকা দোলনা।
ধোন্দাকোলা গ্রামের মানিক চন্দ্র বলেন, ‘মেলা থেকে কিনে আনা মাছ, নতুন আলুর তরকারি, নতুন চালের ক্ষীর ও পায়েস দিয়ে খাবার খেয়ে আমরা নবান্ন উৎসব উদ্যাপন করি।’
উথুলী ছাড়াও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে শুক্রবার ভোর থেকে বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা, মহাস্থানহাট, বুড়িগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বসেছে মাছের মেলা।
শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, নবান্নের মেলা এই এলাকার একটি বিশেষ ঐতিহ্য। গ্রামে গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মেলায় কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা যেন না হয় সে জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-১২ আসনে (তেজগাঁও এলাকা) রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আসনে ‘তিন সাইফুলের’ উপস্থিতি ভোটের মাঠে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। তাঁরা হলেন—দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল
৩ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় সর্বোচ্চ খরচের পরিকল্পনা করেছেন বিএনপির আলী আসগর লবী। আর জেলায় সবচেয়ে কম বাজেট একই দলের আরেক প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের। হলফনামায় ছয়টি আসনের প্রার্থীদের অধিকাংশই নিজস্ব আয়ের পাশাপাশি স্বজনদের কাছ থেকে ধার ও অনুদান নিয়ে এই ব্যয় মেটানোর কথা জানিয়েছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের মামলায় ১৭০ এবং বিএনপির মামলায় ২১৭ জনকে আসামি করা হয়। গত শনিবার রাতে জামায়াত নেতা হেজবুল্লাহ এবং বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা দুটি করেন।
৩ ঘণ্টা আগে
পাশাপাশি দুটি জনগোষ্ঠীর বসবাস। দূরত্ব বলতে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার হবে। মাঝখানে বয়ে চলা ছোট একটি ছড়া, যা পৃথক করেছে চা-শ্রমিক ও খাসিয়া জনগোষ্ঠীর আবাসস্থলকে। কাছাকাছি এলাকায় বসবাস হলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ডবলছড়া খাসিয়াপুঞ্জি ও ডবলছড়া বা সুনছড়া চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনমানে ব্যাপক ফারাক।
৩ ঘণ্টা আগে