
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে বাঙ্গালী নদী খননের নিলাম হওয়া বালু শাজাহানপুর উপজেলার ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের শৈলধুকড়ী গ্রামে নদীর পাড়ে ইতিমধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
দিনরাত বালু পরিবহন করা ট্রাকের চাকায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার কাঁচা-পাকা সড়ক। ব্যবসায়ীরা বালু বহনে পাউবোর শর্ত মানছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বগুড়া পাউবোর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হকের স্বাক্ষরে নিলামের কার্যাদেশ হয়। ওই কার্যাদেশ থেকে জানা যায়, নদী খননের ৮ লাখ ৩২ হাজার ৫৪১ ঘনফুট বালু ৬ লাখ ২৪ হাজার ৯২৬ টাকায় দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাসুদ কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মাসুদুজ্জামানকে। ওই বছরের ২৮ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে বালু অপসারণ করতে বলা হয়।
তবে ২০২৫ সালের ২৯ জুন আরেকটি আদেশে আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে বালু অপসারণে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে কত ঘনফুট বালু অপসারণ করা হয়েছে, আর কত ঘনফুট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপসারণ করতে হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
প্রথম কার্যাদেশে মোট ৮টি শর্ত উল্লেখ থাকলেও দ্বিতীয় কার্যাদেশে ৯টি শর্ত রয়েছে। উভয় কার্যাদেশের ৪ নম্বর শর্তে লেখা হয়েছে, ‘মাটি পরিবহনের কারণে জনগণের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিলাম ডাককারীকে নিজ খরচে মেরামত করতে হবে।’ দ্বিতীয় কার্যাদেশের ৮ নম্বর শর্তে লেখা হয়েছে, শর্তাবলি ভঙ্গ করলে নিলাম চুক্তি বাতিলসহ বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই এলাকার পাশের আরেকটি স্থান থেকে নিলামে ২ লাখ ৫০ হাজার ঘনফুট বালু কিনে বিক্রি করছেন মাশফিকুর রহমান মামুন নামের বিএনপির এক নেতা।
কামরুজ্জামান রাজা নামের আমরুল ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, বালু পরিহবনের কারণে দুর্ভোগে পড়েছে আমরুল ইউনিয়নের শৈলধুকড়ী, লক্ষ্মীপুর, গোবিন্দপুর, রাধানগর, নগর, রামপুর ফুলকোট, পরানবাড়িয়াসহ আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ।
জানতে চাইলে আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য রবিউল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, মাসুদুজ্জামান ৮ লাখ ৩২ হাজার ঘনফুট বালু নিলামে পেলেও এক কোটি ঘনফুটের বেশি বালু বিক্রি করেছেন। যদিও কাগজে-কলমে মাসুদের বালু বিক্রি শেষ হচ্ছেই না।
শাজাহানপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ ইমরান বলেন, ‘প্রতি কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়। চাহিদা দেওয়ার সঙ্গেই পাওয়া যাবে এমন নয়। শৈলধুকড়ী বালুর ঘটনায় সড়ক নষ্টের কথা শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাস্তা নষ্ট হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদার মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আমি শাজাহানপুর উপজেলা কোকো পরিষদের সভাপতি। তিন লক্ষাধিক টাকায় কাঁচা রাস্তা সংস্কার করেছি।’
আরেক বালু ব্যবসায়ী মাশফিকুর রহমান মামুন বলেন, ‘আমি উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক পদে আছি। দল করলেও ব্যবসা করার অধিকার রয়েছে। এটা দলীয় কোনো বিষয় নয়। বালু তো আর ফেলে আসতে পারব না।’
শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইনামুল হক শাহীন বলেন, ‘শুনেছি সরকারি টেন্ডারে স্তূপীকৃত বালু অপসারণের কাজ তাঁরা পেয়েছেন। তবে নিয়মমাফিক এবং সঠিকভাবে অপসারণ করছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা দরকার।’
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নিলাম গ্রহণকারীদের সতর্ক করেছি। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। যারা নিলাম দিয়েছে, তারা নিলাম বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। নিলামের ৪ নম্বর শর্তের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’
বগুড়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘আমি দুদিন হলো যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টি জেনে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে (গাইবান্ধা-১) আসনে ৩০ ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী জামায়াতের প্রার্থী মো. মাজেদুর রহমান সরকার ৩৩ হাজার ৯২৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী ৭ হাজার ৯৬০ ভোট পেয়েছেন।
১০ মিনিট আগে
বান্দরবান-৩০০ আসনে মোট ১৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৩টির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী ধানের শীষ প্রতীকে ৫১,৫২৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
১৭ মিনিট আগে
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ ৫০টি কেন্দ্রে ৪৪ হাজার ৯০১ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ২৫ হাজার ৩২৮ ভোট।
২০ মিনিট আগে
নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে মোট ৯১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫টির ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মঈন খান ২৫,০৬২ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
২২ মিনিট আগে