Ajker Patrika

সাপের কামড় খাওয়া সেই জেলের মৃত্যু, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন অনেকে

শিমুল চৌধুরী, ভোলা
সাপের কামড় খাওয়া সেই জেলের মৃত্যু, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন অনেকে
বাবুলের মৃত্যুর পর তাঁর বিধবা স্ত্রী ও সন্তানের হাতে অর্থসাহায্য তুলে দেন অনেকে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিষধর সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়া দরিদ্র জেলে বাবলু মারা গেছেন। গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। আজকের পত্রিকায় বাবলুর বিষয়ে খবর প্রকাশের পর অনেকেই তাঁর অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

অর্থের অভাবে বাবলুর চিকিৎসা করাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন স্ত্রী সুরমা বেগম। এমন পরিস্থিতিতে স্বামীর জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন সুরমা বেগম। বিষয়টি নিয়ে গত রোববার আজকের পত্রিকার অনলাইনে ‘সাপের ছোবলে জীবন-সংকটে জেলে বাবলু, অর্থাভাবে থমকে চিকিৎসা’ শিরোনামে একটি মানবিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। আজকের পত্রিকার ওই সংবাদ শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অসহায় জেলে বাবলুকে সহযোগিতার অনুরোধ জানান। এরই মধ্যে গত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে বাবলুর মৃত্যু হয়।

বাবলু দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেরামত আলী বাড়ির মৃত আহমদ আলীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে যান।

আজকের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ও অসহায় দরিদ্র জেলে বাবলুর মৃত্যুর খবরটি জানতে পেরে অনেকেই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিকের সুপারভাইজার মো. মাকসুদ আলম। তিনি মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে অসহায় দরিদ্র বাবলুর পরিবারকে অর্থসহায়তা করেন। তিনি বাবলুর দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচও চালিয়ে যাবেন বলে জানান।

এ ছাড়া দুবাইপ্রবাসী মো. ফরহাদও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা করেন। যাতে প্রয়াত বাবলুর স্ত্রী-সন্তানদের খাদ্য ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়। এ ছাড়া আবুল কালাম আজাদ, আ. মান্নান, মো. আওলাদ হোসেনসহ অনেকেই বাবলুর পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বাবলুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী সুরমা বেগমের হাতে সহায়তার টাকা তুলে দেন ছাকিনা আদর্শ একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও দৌলতখান রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজ হোসাইন, সুকদেব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম, মো. হেলাল উদ্দিন এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. রাকিব হোসেন।

সহায়তার অর্থ পেয়ে বাবলুর স্ত্রী সুরমা বেগম বলেন, ‘বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এই টাকা আমার ধারদেনা পরিশোধসহ আমি ও আমার দুই সন্তানের জীবনে চলার পথে অনেক উপকারে আসবে।’

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিকের সুপারভাইজার মো. মাকসুদ আলম আজ বিকেলে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য। আমি আজকের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর জানতে পারি, আমার এলাকার এক লোক বাবলুকে সাপে কামড়েছে। অথচ চিকিৎসা হচ্ছে না, এটা তো হতে পারে না। আমার কাছে বিষয়টি খারাপ লেগেছে। পরে জানলাম, অসহায় দরিদ্র সেই বাবলু মারা গেছে। তখন চিন্তা করলাম, তার জন্য আমাদের কিছু করা দরকার। তাই আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি পরিবারটির জন্য সহযোগিতা করতে। মানবিকতার কারণে আমি বাবলুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। যতটুকু সম্ভব, ভবিষ্যতেও তার পরিবারের খোঁজখবর রাখব।’ তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবানদের উচিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছে সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ। তারা আশা প্রকাশ করে—সমাজের অন্য সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসবেন।

দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল মতিন খান বলেন, ‘আমি জেনেছি, সাপের কামড়ে আহত হওয়ার পর অসহায় দরিদ্র জেলে বাবলুকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে জানলাম, তিনি মারা গেছেন। আমরা বিষয়টি মানবিকভাবে দেখব। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কীভাবে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায়, সেটা বিবেচনায় নেব।’

ইউএনও আরও বলেন, আজকের পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরে ইতিমধ্যে অনেকেই বাবলুর পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত