Ajker Patrika

অন্তঃসত্ত্বা প্রবাসী নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
অন্তঃসত্ত্বা প্রবাসী নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা
প্রতীকী ছবি

বরিশালের গৌরনদীতে মোমেনা বেগমের (২৪) নামে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রবাসী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘরের দরজা বন্ধ ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও জানালার গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস দেওয়া গৃহবধূর হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে ঠেকানো ছিল বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। মোমেনা সন্তানসম্ভবা হওয়ায় ১৫ দিন আগে দেশে ফিরে শাশুড়ির সঙ্গে থাকছিলেন।

সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে উপজেলার টরকী বন্দর ছাগলহাটা এলাকার জনৈক মন্টু সরদারের ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে।

মোমেনার খালাতো ভাই ওমর ফারুক মঙ্গলবার জানান,  মোমেনা ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কানারামপুর গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন থেকে দুবাই ছিলেন। সেখানে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ রাঢ়ীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।  একপর্যায়ে ৩ বছর আগে দুবাইয়ে তাদের বিয়ে হয়। বর্তমানে মোমেনা আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় ১৫ দিন আগে স্বামী সোহাগ রাঢ়ী স্ত্রী মোমেনা বেগমকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। সেই থেকে মোমেনা টরকী বন্দরের ছাগলহাটা এলাকার জনৈক মন্টু সরদারের ভাড়াটিয়া বাসায় শাশুড়ি, দেবর ও জায়ের সঙ্গে থাকতেন।

মোমেনার ছোট বোন দিনা বেগমের অভিযোগ, বাড়িতে ফেরার পর থেকে মোমেনাকে তাঁর স্বামী মোবাইল ফোনে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন (সোমবার) বিকেলে জরুরি প্রয়োজনে তিনি বাসার বাইরে গিয়ে রাতে ফেরেন। এসে দেখেন বড় বোন মোমেনার রুমের দরজা বন্ধ।

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, রাত ১২টার দিকে অপর এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে মোমেনার রুমের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে বাসায় থাকা মোমেনার দেবর রাহাত রাঢ়ী (১৭) ও তাঁর মায়ের সহযোগিতায় রুমের দরজা ভাঙেন। দরজা ভাঙার পর ভেতরে জানালার গ্রীলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মোমেনাকে দেখতে পান তারা। তবে তাঁর পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝের সঙ্গে লাগানো ছিল। পরবর্তীতে ৯৯৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

মোমেনার বাবা মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার অভিযোগ, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। ছোট মেয়ে দিনা বাসায় না থাকার সুযোগে প্রবাসী সোহাগের প্ররোচনায় তার ছোটভাই ও মা মিলে মোমেনাকে হত্যা করেছে। পরবর্তীতে তড়িঘড়ি করে মোমেনার মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে মৃতের মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওসি জানান, ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃত মোমেনা বেগমের শাশুড়ি ও দেবরকে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত