রুদ্র রুহান, বরগুনা

‘এমনেই এ বচ্ছর মাছ পোনা কোম, মোগো অবস্থা খুব খারাপ। গুরাগারা লইয়া দুগ্গা ডাইল-ভাত খামু হেইয়ার কোনো উপায় নাই। ২২ দিনের অবরোধে ভারতের বড় বড় ট্রলি সাগরে মাছ ধইর্যা লইয়া যায়। মোগো যত কষ্ট অউক সামলামু, তোমো (তবুও) ভারতীয়ারা যাতে অবরোধের সময় সাগরে মাছ না ধরে হেইয়া ঠ্যাহান।’
কথাগুলো বলছিলেন বরগুনার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা গ্রামের জেলে আলমাস সিকদার।
ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে কাল বৃহস্পতিবার থেকে। এবারের মৌসুম তেমন ভালো কাটেনি জেলেদের। তার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞায় বিপদ বেড়েছে তাঁদের। মাছ ধরা বন্ধ হওয়ায় সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা ভর করেছে জেলেদের ওপর।
তবে জেলেদের হতাশার বড় কারণ, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ভারতীয় জেলেদের মাছ শিকার করা নিয়ে। তারা সাগরের বাংলাদেশের সীমানায় অনুপ্রবেশ করে ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ শিকার করে নিয়ে যায়।
জেলেদের এমন অভিযোগের সত্যতা মেলে বিগত বছরগুলো বঙ্গোপসাগরে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকারের দায়ে আটক হওয়া জেলেদের পরিসংখ্যানে।
সবশেষ গত বছর (৩ সেপ্টেম্বর) অবৈধভাবে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকারের সময় বিপুল পরিমাণ ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছসহ ১৩ ভারতীয় জেলেকে আটক করে কোস্ট গার্ড।
এর আগে গত বছরের ৮ আগস্ট একই কারণে আরও ১৩ জন, ২৯ জানুয়ারি ২৮ জন ও গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ১৬ জন, ২ ডিসেম্বর ১৭ জন ভারতীয় জেলে নৌবাহিনীর হাতে আটক হয়।
এ ছাড়া ২০২২ সালের ৭ জুলাই পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বঙ্গোপসাগরের মোহনা রামনাবাদ চ্যানেল থেকে ৩২টি ভারতীয় ট্রলারসহ পাঁচ শতাধিক জেলেকে আটক করেছেন উপকূলীয় কোস্ট গার্ড সদস্যরা। প্রতিবছরই এ ঘটনা ঘটে চলেছে।
তালতলীর নিদ্রারচর এলাকার জেলে আবদুল হক মিয়া বলেন, ‘মোগো ২২ দিন সরকার নিষুদ (নিষেধাজ্ঞা) দিছে মাছ না ধরার। মোরা আত পাও গুছাইয়া বইস্যা থাকমু আর হ্যারা (ভারতীয়রা) মাছ ধইর্যা লইয়া যাইবে। না খাইয়া থাহার চাইতেও এইডা মোগো জইন্নে খুব কষ্টের।’
বরগুনা জেলে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল মাঝি আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাংলাদেশের জলসীমা শেষে ভারতের কাকদ্বীপ এলাকা কাছে। সেখানকার শত শত জেলে এ দেশের জলসীমায় মাছ ধরতে আসে। মাছ ধরার অত্যাধুনিক সরঞ্জাম থাকায় তারা অনেক বেশি মাছ আহরণ করতে পারে।
সাগরে অধিকাংশ সময়ই ভারতীয় জেলেদের উৎপাত বেশি থাকে উল্লেখ করে জেলে খালেক হাওলাদার বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞাকালীন ভারতীয় জেলেরা আমাদের সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। এমনকি তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্বিচারে প্রজনন স্থলে মাছ শিকার করে বেড়ায়। এমনটা যদি অব্যাহত থাকে, তবে ইলিশ আর আমাদের ভাগ্যে জুটবে না।’
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘পেটে পাথর বেঁধে আমরা মাছ ধরায় বিরত থাকি। আর আমাদের পাশের দেশের জেলেরা আমাদের সীমানায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে না হয় জেলেদের লাভ, না বাড়ে মাছের উৎপাদন। আমরা কষ্ট করতে প্রস্তুত আছি, যদি তাতে দেশের ভালো হয়। কিন্তু ভারতীয়রা মাছ শিকার করলে এতে তো ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হচ্ছে না।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার দেব বলেন, এ বছর জেলায় মোট ৩৬ হাজার জেলেকে নিষেধাজ্ঞাকালীন খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য ৯০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা অমান্য যে করবে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছি।’

‘এমনেই এ বচ্ছর মাছ পোনা কোম, মোগো অবস্থা খুব খারাপ। গুরাগারা লইয়া দুগ্গা ডাইল-ভাত খামু হেইয়ার কোনো উপায় নাই। ২২ দিনের অবরোধে ভারতের বড় বড় ট্রলি সাগরে মাছ ধইর্যা লইয়া যায়। মোগো যত কষ্ট অউক সামলামু, তোমো (তবুও) ভারতীয়ারা যাতে অবরোধের সময় সাগরে মাছ না ধরে হেইয়া ঠ্যাহান।’
কথাগুলো বলছিলেন বরগুনার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা গ্রামের জেলে আলমাস সিকদার।
ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে কাল বৃহস্পতিবার থেকে। এবারের মৌসুম তেমন ভালো কাটেনি জেলেদের। তার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞায় বিপদ বেড়েছে তাঁদের। মাছ ধরা বন্ধ হওয়ায় সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা ভর করেছে জেলেদের ওপর।
তবে জেলেদের হতাশার বড় কারণ, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ভারতীয় জেলেদের মাছ শিকার করা নিয়ে। তারা সাগরের বাংলাদেশের সীমানায় অনুপ্রবেশ করে ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ শিকার করে নিয়ে যায়।
জেলেদের এমন অভিযোগের সত্যতা মেলে বিগত বছরগুলো বঙ্গোপসাগরে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকারের দায়ে আটক হওয়া জেলেদের পরিসংখ্যানে।
সবশেষ গত বছর (৩ সেপ্টেম্বর) অবৈধভাবে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকারের সময় বিপুল পরিমাণ ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছসহ ১৩ ভারতীয় জেলেকে আটক করে কোস্ট গার্ড।
এর আগে গত বছরের ৮ আগস্ট একই কারণে আরও ১৩ জন, ২৯ জানুয়ারি ২৮ জন ও গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ১৬ জন, ২ ডিসেম্বর ১৭ জন ভারতীয় জেলে নৌবাহিনীর হাতে আটক হয়।
এ ছাড়া ২০২২ সালের ৭ জুলাই পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বঙ্গোপসাগরের মোহনা রামনাবাদ চ্যানেল থেকে ৩২টি ভারতীয় ট্রলারসহ পাঁচ শতাধিক জেলেকে আটক করেছেন উপকূলীয় কোস্ট গার্ড সদস্যরা। প্রতিবছরই এ ঘটনা ঘটে চলেছে।
তালতলীর নিদ্রারচর এলাকার জেলে আবদুল হক মিয়া বলেন, ‘মোগো ২২ দিন সরকার নিষুদ (নিষেধাজ্ঞা) দিছে মাছ না ধরার। মোরা আত পাও গুছাইয়া বইস্যা থাকমু আর হ্যারা (ভারতীয়রা) মাছ ধইর্যা লইয়া যাইবে। না খাইয়া থাহার চাইতেও এইডা মোগো জইন্নে খুব কষ্টের।’
বরগুনা জেলে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল মাঝি আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাংলাদেশের জলসীমা শেষে ভারতের কাকদ্বীপ এলাকা কাছে। সেখানকার শত শত জেলে এ দেশের জলসীমায় মাছ ধরতে আসে। মাছ ধরার অত্যাধুনিক সরঞ্জাম থাকায় তারা অনেক বেশি মাছ আহরণ করতে পারে।
সাগরে অধিকাংশ সময়ই ভারতীয় জেলেদের উৎপাত বেশি থাকে উল্লেখ করে জেলে খালেক হাওলাদার বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞাকালীন ভারতীয় জেলেরা আমাদের সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। এমনকি তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্বিচারে প্রজনন স্থলে মাছ শিকার করে বেড়ায়। এমনটা যদি অব্যাহত থাকে, তবে ইলিশ আর আমাদের ভাগ্যে জুটবে না।’
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘পেটে পাথর বেঁধে আমরা মাছ ধরায় বিরত থাকি। আর আমাদের পাশের দেশের জেলেরা আমাদের সীমানায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে না হয় জেলেদের লাভ, না বাড়ে মাছের উৎপাদন। আমরা কষ্ট করতে প্রস্তুত আছি, যদি তাতে দেশের ভালো হয়। কিন্তু ভারতীয়রা মাছ শিকার করলে এতে তো ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হচ্ছে না।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার দেব বলেন, এ বছর জেলায় মোট ৩৬ হাজার জেলেকে নিষেধাজ্ঞাকালীন খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য ৯০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা অমান্য যে করবে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছি।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে চারজন কোটিপতি। তাঁরা হচ্ছেন স্বতন্ত্র আবুল বাসার খান, জামায়াতের ড. ইলিয়াস মোল্যা, বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মোল্যা। এর মধ্যে প্রথম দুজন ফরিদপুর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
২ ঘণ্টা আগে
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বান্দরবানে জামায়াতের জয় ঠেকাতে বিএনপিকে সমর্থন দিতে পারে। বিএনপি এবার পাশে পাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকেও (জেএসএস)।
২ ঘণ্টা আগে
৭০ বছর বয়সী জাবেরুন নেছা। রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে সারা জীবনের অর্জিত অর্থ দিয়ে নিজের নামে এক কাঠা ও ছেলের নামে দুই কাঠা জমি কিনেছিলেন। ১৭ বছর আগে কেনা সেই জমি এখন হাতছাড়া হওয়ার পথে।
৩ ঘণ্টা আগে
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ গেটসংলগ্ন রেললাইন এখন কার্যত রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণে নেই। সরকারি বিধি, রেলওয়ে আইন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে রেললাইনের গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী অসংখ্য দোকান। এমনকি পরিত্যক্ত রেললাইনের ওপর দোকানঘর নির্মাণ করে নিয়মিত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে