Ajker Patrika

উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খাসজমি ফের দখলের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 
উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খাসজমি ফের দখলের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
বাবুগঞ্জে উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি খাসজমি ফের দখল করেন ইউপি সদস্য নার্গিস বেগম। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশালের বাবুগঞ্জে উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি খাসজমি ফের দখলের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সংরক্ষিত সদস্য নার্গিস বেগমের বিরুদ্ধে রাহুতকাঠি বন্দরে সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।

১১ আগস্ট বিকেলে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জমিটি দখলমুক্ত করলেও ওই রাতেই তা ফের দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য নার্গিস বেগম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাহুতকাঠি বন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাসজমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে ছিল। সেখানে দোকানঘর, বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ দেখা দিলে স্থানীয়রা খাসজমি উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১১ আগস্ট বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্নার নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় খাসজমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে জমিটি দখলমুক্ত করা হয়।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর ওই রাতেই জমিটি পুনরায় দখল করা হয়। দেহেরগতি ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নার্গিস বেগম ও তার লোকজন জমিটি দখল করে বেড়া ও ত্রিপল দিয়ে ঘিরে দেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল এবং উচ্ছেদের পর পুনরায় দখলের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘সরকারি জমি দখলমুক্ত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি আবার দখল হয়ে যায়, তাহলে উচ্ছেদ অভিযানের সার্থকতা কোথায়? শুধু উচ্ছেদ করলেই হবে না, সরকারি জমির সীমানা নির্ধারণ করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তবে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য নার্গিস বেগম বলেন, ‘রাহুতকাঠি বন্দরের ওই জমিটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন আমাদের দোকানঘর উচ্ছেদ করেছে।’

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, সরকারি খাসজমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা উচ্ছেদের পর পুনরায় দখলের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের চেষ্টা করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত