নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে জাল ফেলতেই আবহাওয়ার চোখরাঙানি

দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়েছেন বরগুনার পাথরঘাটার জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার পর প্রচুর ইলিশ পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতিতে তাঁদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।
আজ শুক্রবার পাথরঘাটার আকাশ ছিল মেঘলা। কয়েক দফা বৃষ্টির পাশাপাশি বয়ে গেছে দমকা হাওয়া। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সামুদ্রিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ বিরাজ করছে, যা আরও ঘনীভূত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টিরও পূর্বাভাস রয়েছে।
দীর্ঘদিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অনেক জেলেকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে প্রচুর ইলিশ পাওয়ার আশায় নৌকা, ট্রলার ও জাল নিয়ে মাছ ধরতে ছুটেছেন তাঁরা। প্রত্যাশা ছিল, নিষেধাজ্ঞার সুফলে ইলিশের প্রাচুর্য বাড়বে এবং আগের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। কিন্তু সাগরে যাওয়ার শুরুতেই বৈরী আবহাওয়ায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, গত ইলিশ মৌসুমেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেদের মাছ ধরতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনেক সময় সাগরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি মাছ ধরতে গিয়ে এখনো অনেক জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
গোলাম মোস্তফা আরও বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে নতুন আশায় জেলেরা সাগরে গেছেন। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই বৈরী আবহাওয়ায় তাঁদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া কঠিন হবে। একই সঙ্গে বাড়বে সাগরে জেলেদের নিরাপত্তাঝুঁকিও।
এদিকে সাগরে থাকা জেলেদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। বিশেষ করে গত মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ায় জেলেদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তাঁদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। প্রিয়জনদের নিরাপদে ঘাটে ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটছে উপকূলের এসব পরিবারের।









