Ajker Patrika

বরগুনায় আবারও ইসমাইল শাহের মাজারে অগ্নিসংযোগ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনায় আবারও ইসমাইল শাহের মাজারে অগ্নিসংযোগ
ইসমাইল শাহের মাজারে কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে মাজারের গিলাফের একাংশ পুড়ে গেছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরগুনার আমতলী উপজেলার ইসমাইল শাহের মাজারে আবারও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার দিবাগত রাতে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে মাজারের গিলাফের একাংশ পুড়ে গেছে। নতুন করে মাজারে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ভক্তবৃন্দ ও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ইসমাইল শাহের মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের অভিযোগ, মাজার ধ্বংসের উদ্দেশ্যেই একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বারবার অগ্নিসংযোগ করছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী পৌর শহরের বটতলা এলাকায় ১৯৯৬ সালে ইসমাইল শাহের মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছর দুই দিনব্যাপী ওরস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। গত বছরের ১৬ মার্চ ২৮তম ওরস চলাকালে শতাধিক ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হন।

এর এক বছর চার মাস পর শুক্রবার গভীর রাতে আবারও দুর্বৃত্তরা মাজার ও ইসমাইল শাহের ছেলে শহীদ চিশতির বসতঘরে কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন দেয়। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

শনিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, মাজারের গিলাফের একাংশ আগুনে পুড়ে গেছে। মাজারের মেঝে এবং শহীদ চিশতির বসতঘরের চারপাশে কেরোসিনের দাগ দেখা যায়।

মাজারের ভক্ত ও প্রত্যক্ষদর্শী সেকান্দার বয়াতি বলেন, ‘রাতে প্রকৃতির ডাকে বাইরে বের হয়ে দেখি মাজারে আগুন জ্বলছে। পরে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’

ইসমাইল শাহের ছেলে শহীদ চিশতি বলেন, ‘মানুষের ডাকাডাকি শুনে ঘুম থেকে উঠে কেরোসিনের গন্ধ পাই। বাইরে বের হতে গিয়ে দেখি দরজা খুলতে পারছি না। পরে লোকজন এসে ছিটকিনি খুলে দিলে বের হতে সক্ষম হই।’ তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘গত বছর ওরস চলাকালে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। এবারও একইভাবে কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে না এলে মাজার ও বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যেতে পারত। আমরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি চাই।’

আমতলী থানার ওসি ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত