Ajker Patrika

বরগুনার পাথরঘাটা

পাউবোর জমিতে হাটবাজার ও বহুতল ভবন, পেছনে মামুন

  • বনায়নের হাজার হাজার চারা গাছ কেটে ঘর উত্তোলন।
  • ঘরপ্রতি ৩৫ হাজার থেকে লাখ টাকা দিতে হয়।
  • সত্যতা পেলে মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: নির্বাহী প্রকৌশলী
মনোতোষ হাওলাদার, বরগুনা
পাউবোর জমিতে হাটবাজার ও বহুতল ভবন, পেছনে মামুন
সদর ইউনিয়নের বিএফডিসি ঘাটসংলগ্ন বাঁধে গড়ে ওঠা দোকানঘর। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি দখলে নিয়ে দোকানঘর ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা পাউবোর অফিস সহকারী মামুনকে ম্যানেজ করেই এসব দখল চলছে। বিনিময়ে মামুন দখলদারদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন বেড়িবাঁধে পাথরঘাটা বন বিভাগের আওতায় রোপণ করা সামাজিক বনায়নের হাজার হাজার গাছ কেটে সেখানে প্রভাবশালীদের ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন এই মামুন।

জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের পদ্মা, টেংড়া বাজারের পাশে, নাচনাপাড়া, কাকচিঁড়া, বাইনচটকি, কালমেঘা, জ্ঞানপাড়া কাঞ্চুরহাট, চরদোয়ানী ইউনিয়নের মাছের খাল বাজার, বান্ধাঘাটাসহ একাধিক স্থানে বেড়িবাঁধের ওপর হাটবাজার গড়ে উঠেছে। এসব স্থানে মামুনকে ম্যানেজ করে বহুতল ভবন ও ছোট-বড় অসংখ্য স্থাপনা গড়ে তুলছে প্রভাবশালীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, পাথরঘাটা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পাউবোর জমি প্লট আকারে বরাদ্দ দিচ্ছেন মামুন। সেখানে স্থাপনা নির্মাণের কাজ করছেন কয়েকজন নির্মাণশ্রমিক। জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের মামুনকে টাকা দিয়েই এখানে স্থাপনা নির্মাণকাজ করা হচ্ছে।

সরকারি জমি দখলে নিয়ে নির্মিত পাকা ভবন। সম্প্রতি বরগুনার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। ছবি: আজকের পত্রিকা
সরকারি জমি দখলে নিয়ে নির্মিত পাকা ভবন। সম্প্রতি বরগুনার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। ছবি: আজকের পত্রিকা

এদিকে সদর ইউনিয়নে নিজলাঠিমা গ্রামের টেংরা বাজারে বেড়িবাঁধের ওপর সামাজিক বনায়নের হাজার হাজার চারা গাছ কেটে ঘর উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখানে গিয়ে জানা গেছে, এসব ঘর তোলার অনুমতি দিয়েছেন মামুন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব ঘর তুলতে মামুনকে ঘরপ্রতি প্রায় ৩৫ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকা দিতে হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বাঁধের জমিতে ঘর তুলতে তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা চেয়েছেন মামুন, তিনি ৫০ হাজার দিতে চাওয়ায় ঘরে উঠতে পারেননি। পরে এমাদুল গাজী ২ লাখ টাকা দেওয়ায় তাঁকে ঘর তোলার অনুমতি দিয়েছে।’

পাথরঘাটা বন বিভাগের সদর বিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই বলেন, ‘বন বিভাগের মামুন বিভিন্ন সময় সরকারি জমি টাকার বিনিময় অনেককে দখলে দিয়েছেন, এমনকি আমাদের বনের গাছ কেটেও আর্থিক লেনদেন করেন। বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত বনায়নের ছোট ছোট চারা গাছ নষ্ট করে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে দোকান তোলার প্লট দিয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে আমরা আরও আগেই সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি।’

পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম সগীর বলেন, ‘মামুন বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকাপয়সা নিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ঘর ওঠানোর অনুমতি দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অনেক লোকে আমার কাছে বলেছে। যে রকম শুনি, তাতে মনে হয়, এই পাথরঘাটার মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের মামুন নিজেই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কার্যালয়ে গেলে সাংবাদিকের সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না বলে স্থান ত্যাগ করেন মামুন।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমাদের জমি বিভিন্ন জায়গায় দখল হয়ে যাচ্ছে, এমন অভিযোগ পাচ্ছি। তবে মামুন যে আমাদের নাম বলে টাকা নিচ্ছে, এটা আমাদের জানা নেই। সত্যতা পেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও-এসি ল্যান্ড বদলি

কিশোরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়াতে উপসাগরীয় মিত্রদের সৌদির ‘গোপন বার্তা’

মার্কিন বাহিনীতে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না ইরানের: কংগ্রেসকে পেন্টাগন

ভুলবশত ৩টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে কুয়েত: মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত