
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাত্রা ও সময় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তারা উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে যা তেহরান বা তাদের মিত্র গোষ্ঠীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে এবং অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।
দুটি উপসাগরীয় আরব সূত্র মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান শনিবার বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেন। এর কিছুক্ষণ আগে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরব উপদ্বীপজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলার নিন্দা জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়।
সূত্রগুলো জানায়, কথোপকথনগুলো সংক্ষিপ্ত ছিল। তবে একটি মতৈক্য গড়ে উঠছিল যে, ইরানের পাল্টা হামলা প্রত্যাশার তুলনায় কম তীব্র ছিল। তাই উপসাগরীয় দেশগুলোর উচিত হবে এমন কোনো সরাসরি পদক্ষেপ না নেওয়া, যা তেহরানের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।
পরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ আঞ্চলিক সমকক্ষদের সঙ্গে ফোনালাপেও একই মনোভাব প্রতিফলিত হয় বলে সূত্রগুলো জানায়। সেই ফোনালাপগুলোতে উত্তেজনা প্রশমন এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে কোনো একক দেশ আলাদা পথে না হাঁটে।
সূত্রগুলোর মতে, ইয়েমেন ও সুদানের যুদ্ধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কয়েক মাস ধরে মতবিরোধে থাকা সৌদি যুবরাজ ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের মধ্যকার ফোনালাপও ইঙ্গিত দেয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরানের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার আগে রিয়াদকে অবহিত করা হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধ নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা সৌদি আরব হোয়াইট হাউসের অবস্থানের বিরুদ্ধে যায়নি।
গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে ফিরে আসার পর থেকেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার আহ্বান জানিয়ে তার দীর্ঘদিনের প্রকাশ্য প্রচারণা আরও জোরদার করেন। তিনি ইরানকে তার দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন।
গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের পর সেই প্রচারণা আরও তীব্র হয়। সে সময় ইসরায়েল আকস্মিক হামলায় ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করে। পাশাপাশি শীর্ষ সামরিক নেতা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও রাজনীতিকদের হত্যা করে।
শনিবার ইরানে হামলার মাধ্যমে হোয়াইট হাউস কার্যত আঞ্চলিক মিত্রদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলে এক সূত্র জানিয়েছে। মিত্ররা হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছিল, বিশেষ করে যখন একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এড়াতে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি হামলার পরপরই ‘গভীর হতাশা’ প্রকাশ করেন। তার মন্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে।
তিনি বলেন, ‘এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বৈশ্বিক শান্তির লক্ষ্য কোনোভাবেই সুরক্ষিত হচ্ছে না। আমি নিরপরাধ মানুষদের জন্য প্রার্থনা করছি, যারা ভুগবে। আমি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও গভীরে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানাই। এটি আপনাদের যুদ্ধ নয়।’ শুক্রবার, যুদ্ধ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে আল-বুসাইদি আলোচনায় অগ্রগতির কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি সিবিএসের ফেস দ্য নেশন অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা এখন শূন্য মজুতের বিষয়ে কথা বলছি। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সমৃদ্ধ উপাদান যদি মজুত করা না যায়, তাহলে বোমা তৈরির পথও বন্ধ হয়ে যায়।’
শনিবারের ফোনালাপ সম্পর্কে অবগত এক উপসাগরীয় সূত্র জানায়, হামলা যেভাবে পরিচালিত হয়েছে তাতে সৌদি আরব ‘গভীরভাবে ক্ষুব্ধ।’ সতর্ক ভাষায় সমালোচনা করে ওই সূত্র জানায়, উপসাগরীয় কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিকভাবে জড়ালে তা ইয়েমেনের হুতিদের সংঘাতে টেনে আনতে পারে। সূত্রটি বলেছে, ‘এখন আমাদের সবচেয়ে বড় ভয় হলো, যেকোনো উত্তেজনা তেহরানের কাছে তাদের মিত্র নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার অজুহাত হয়ে উঠতে পারে।’
হুতি প্রতিনিধিদের একজন বলেন, ‘পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা দেখতে বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে।’
গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের জ্যেষ্ঠ নন-রেসিডেন্ট ফেলো ও সৌদি গবেষক আবদুলআজিজ আলঘাশিয়ান বলেন, ইরানে হামলার সিদ্ধান্তে সৌদিরা ‘ক্ষুব্ধ’ ছিল এবং পরিস্থিতি এড়াতে তারা ‘সম্ভব সবকিছু করেছে।’ তিনি বলেন, উপসাগরজুড়ে ইরানি হামলার মধ্যেও সৌদি আরব সম্ভবত প্রকাশ্য কূটনীতি এড়িয়ে চলবে। তবে তারা বিষয়টি ‘শীতল’ করার চেষ্টা করতে পারে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

জীবিত আছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। এমনটাই দাবি করেছেন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্ট। গতকাল রোববার ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
৪ মিনিট আগে
কুয়েতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়ে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বিমানটিকে এফ–১৬ বলেও ধারণা করছেন।
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এমনকি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকেও অ্যান্টিশিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল।
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না ইরানের। তেহরান আগে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল—গোয়েন্দা তথ্যে এমন কোনো লক্ষণই ছিল না। মার্কিন কংগ্রেসকে এমনটিই জানিয়েছে পেন্টাগন।
১ ঘণ্টা আগে