
কক্সবাজারের চকরিয়া ও পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ভারী বর্ষণের মধ্যে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে দুই শিশু এবং বান্দরবানের লামা উপজেলায় একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন মারা গেছেন। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকার ডেবলতুলি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে তৌসিফ উদ্দিন (১৩) এবং মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে রুমি আক্তার (১৪)।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারটি পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছিল।’
এদিকে বান্দরবানের লামা উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণের পর ভয়াবহ পাহাড়ধসে শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল ধসে দুটি বসতঘরের ওপর মাটি পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা বাসিন্দারা মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান।
আজিজনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন জানান, মিশনপাড়ার মো. ইউনুচের পরিবারের স্বামী-স্ত্রী এবং মো. জুয়েলের পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের এক শিশুসন্তান পাহাড়ধসে মারা গেছেন। ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, টানা বর্ষণের কারণে এলাকার আরও কয়েকটি পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করা হচ্ছে।
ঘটনার পর লামা উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পাহাড়ধসের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
অব্যাহত ভারী বর্ষণে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কায় জেলার সাতটি উপজেলায় ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে বান্দরবানে গত ২৪ ঘণ্টায় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচিত।

অব্যাহত বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদের বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অন্তত ১০ হাজার মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আউশ ধানসহ বিভিন্ন ফসলের মাঠ।
৭ মিনিট আগে
নাটোরের সিংড়া উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের মুন্সি বাঁশবাড়িয়া গ্রামে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ইসমাইল হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ইসমাইল হোসেন ওই গ্রামের মৃত কামিল উদ্দিনের ছোট ছেলে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় এ ঘটনা ঘটে।
১৫ মিনিট আগে
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির শিকার হয়েছেন জাপানপ্রবাসী এক দম্পতি। তাঁদের অভিযোগ, ডাকাতেরা অস্ত্রের মুখে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ১৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় জাপানযাত্রাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে পরিবারটির।
২৩ মিনিট আগে
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও এক শিশুসন্তানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অপর এক সন্তান গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে