Ajker Patrika

বান্দরবানে বন্যার পানি নামছে, আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছে মানুষ

বান্দরবান প্রতিনিধি
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ২০: ০৮
বান্দরবানে বন্যার পানি নামছে, আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছে মানুষ
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বান্দরবান শহরের আর্মিপাড়া এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

টানা কয়েক দিনের ভয়াবহ বন্যার পর বান্দরবানের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত কমে আসায় সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি নামছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা দুর্গত মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরছে। তবে বন্যার পানি নেমে গেলেও ঘরবাড়ি পরিষ্কার, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নতুন সংগ্রাম শুরু হয়েছে তাদের।

গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। প্রশাসনের খোলা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয় ৬ হাজার ২৫০ জন।

বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি নামতে শুরু করেছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ ধীরে ধীরে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরছে। বাড়ি ফিরে অনেকেই দেখছেন, ঘরের ভেতরে কাদা জমে আছে, আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে, ভেসে এসেছে আবর্জনা এবং তৈরি হয়েছে দুর্গন্ধ। অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

বন্যার পানিতে খাদ্যসামগ্রী, কাপড়চোপড়, আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও গৃহস্থালির বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। পানিবাহিত রোগের আশঙ্কায় শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বান্দরবান শহরের আর্মিপাড়া এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বান্দরবান শহরের আর্মিপাড়া এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বান্দরবানের পৌর প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নালা-নর্দমা পরিষ্কার, বর্জ্য অপসারণ ও প্রয়োজনীয় সেবা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে পৌর কর্তৃপক্ষ, যাতে দুর্গত মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পুনর্বাসন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে সহযোগিতা করছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট দুর্যোগে বান্দরবানে পাহাড়ধসে পাঁচজন, পানিতে ডুবে একজনসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামোগত ও কৃষি ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান জানান, এলজিইডির আওতাধীন সড়ক ও কালভার্টের ক্ষতি প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত