Ajker Patrika

চুয়াডাঙ্গায় সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক বিএনপি নেতার মৃত্যু, সড়ক অবরোধ

চুয়াডাঙ্গা ও জীবননগর প্রতিনিধি
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১: ৪৬
বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর খবরে হাসপাতালের সামনে জড়ো হন বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর খবরে হাসপাতালের সামনে জড়ো হন বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে গতকাল সোমবার রাতে সেনাবাহিনীর অভিযান চলাকালে শামসুজ্জামান ডাবলু (৫২) নামের এক বিএনপি নেতা মারা গেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে ডাবলুর।

অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, অভিযানের সময় আতঙ্কে হার্টঅ্যাটাক করে মারা গেছেন বিএনপি নেতা। এ নিয়ে গতকাল রাত থেকে জীবননগর পৌর শহরে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

মৃত ডাবলু পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আজ সকাল পর্যন্ত তাঁর লাশ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল রাত থেকে হাসপাতালের সামনে জড়ো হন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিরাপত্তা বাহিনী জীবননগর উপজেলা শহরে ঝটিকা অভিযান চালায়। ওই সময় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঠিক সামনে ডাবলুর দোকান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

আটকের প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ডাবলুর মৃত্যুর খবর আসে। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা রাতেই রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।

খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে হাসপাতালে ছুটে যান চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু। সেখানে গিয়ে তিনি বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। রাত আড়াইটার দিকে হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা করেন মাহমুদ হাসান। রাত ৩টার দিকে মাহমুদ হাসান হাসপাতালের বাইরে বের হন এবং নেতা-কর্মীদের আবারও শান্ত করার চেষ্টা করেন।

আজ সকাল ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এতে সড়কে কিছুটা থেমে থেমে যান চলাচল করছে।

ডাবলুর ভাই ও জীবননগর উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ভাই পুরোপুরি নিরপরাধ ছিলেন। তাঁকে যেভাবে পেটানো হয়েছে, তা অমানবিক। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি হত্যাকাণ্ড।’

উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রিমন অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও ডাবলুর পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জীবননগর পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন শফি।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ।

এদিকে হাসপাতাল গেটে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, নির্যাতন নয়, বরং অভিযানের মুখে ভয়ে হার্টঅ্যাটাক করে ডাবলু মারা গেছেন।

এই মৃত্যুর ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জীবননগর পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন শফি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত