Ajker Patrika

জলাতঙ্কের টিকা নেই, হয়রান রোগীরা

  • সদর হাসপাতালে সাঁটানো বিজ্ঞপ্তি, নিজ দায়িত্বে টিকা সংগ্রহের পরামর্শ।
  • হাসপাতালে এসে ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা, অনেকে ছুটছেন বিভাগীয় শহরে।
সাদ্দাম হোসেন, ঠাকুরগাঁও 
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৩১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালের জলাতঙ্ক ইউনিটের দরজায় তালা ঝুলিয়ে সাঁটানো একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ইনজেকশন-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন’ এবং ‘ইনজেকশন-আরআইজি’ সরকারি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে রোগীদের নিজ দায়িত্বে টিকা সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরে চলছে এ সংকট। শুধু হাসপাতালে নয়, পুরো জেলা শহরে এই টিকার অভাব দেখা দিয়েছে। এদিকে জলাতঙ্কের মতো মারাত্মক রোগের টিকার অভাবে রোগীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। প্রতিদিন অনেকে কুকুর-বিড়ালের কামড় নিয়ে হাসপাতালে আসছেন; কিন্তু খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। শহরের ফার্মেসিগুলোতেও টিকা পাওয়া যাচ্ছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে কুকুর, বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ৩ হাজার ৪৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময়ে ১৪ হাজার ৩৩৩ ভায়াল অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন (এআরভি) দেওয়া হয়েছে; কিন্তু আরআইজি টিকার কোনো সরবরাহ ছিল না।

জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মঞ্জুরুল ইসলাম টিকার সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এত দিন সিডিসি (অপারেশন প্ল্যান) থেকে টিকা সরবরাহ করা হতো। হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার সিএমডিসির মাধ্যমে কেনার প্রক্রিয়া চলছে। কবে আসবে, তা নিশ্চিত নয়।’

হাসপাতালের জলাতঙ্ক কেন্দ্রের স্টাফ নার্স লুবনা আক্তার বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে কোথাও টিকা নেই। অনেকে বিকল্প হিসেবে রংপুর থেকে নিয়ে আসছেন।

ঠাকুরগাঁও শহরের বাসিন্দা বশির উদ্দিন বলেন, ‘সকালে বাজারে যাওয়ার পথে রাস্তায় কুকুরে কামড় দিয়েছে। হাসপাতালে এসে দেখি টিকা নেই। বিজ্ঞপ্তি দেখে ভয় লেগে গেল। এখন কী করব? জলাতঙ্ক হলে তো মরণ নিশ্চিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি রংপুর যাওয়ার চেষ্টা করছি; কিন্তু যাতায়াতের খরচ আর সময়—সব মিলিয়ে খুব কষ্ট।’

হাসপাতালের প্রধান ফটকে থাকা একটি ফার্মেসির স্টাফ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি সরবরাহ থাকায় কোম্পানিগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ সরকারি লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের স্টকও শূন্য। গত সপ্তাহে অনেক রোগী এসেছেন; কিন্তু আমরা কিছু করতে পারছি না। এখন রংপুর বা দিনাজপুর থেকে আনার চেষ্টা করছি; কিন্তু দাম বেড়ে গেছে।’

শহরের আরেকটি ফার্মেসির মালিক আব্দুল হাকিম বলেন, ‘জলাতঙ্কের টিকা তো দূরের কথা, এখন কোনো স্টকই নেই। সরকারি হাসপাতালে বন্ধ হওয়ার পর থেকে চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছে। আমরা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তাঁরা বলছে সরকারি অর্ডার না এলে উৎপাদন বাড়াবে না। এটা একটা বড় সমস্যা।’

ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালে টিকা না পেয়ে আমি সকালে রংপুর গিয়েছিলাম। সেখানকার একটা ফার্মেসি থেকে র‍্যাবিস ভ্যাকসিন কিনে এনেছি। যাতায়াতে ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে, টিকার দাম ১ হাজার টাকা। কিন্তু কী করব? জীবন তো বাঁচাতে হবে। অনেকে এভাবে যাচ্ছেন, কিন্তু সবার পক্ষে সম্ভব নয়।’

মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কথা হয় সদর উপজেলার সেলিনা বেগমের সঙ্গে। মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে এসে টিকা না পেয়ে চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন তিনি। বলেন, ‘আমি তো গরিব মানুষ, রংপুরে যামু কী দিয়া? অত টাকা ভাড়াই-বা কই পামু আর যেতে আসতে তো সারা দিন শ্যাষ।’

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক রকিবুল আলম চয়ন বলেন, কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো বন্য প্রাণী কামড় দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নিতে হয়। তবে যত দ্রুত টিকা দেওয়া যায়, রোগীর জন্য তত মঙ্গল। দেরি হলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত যদি বদলাতে হয় তখন, বিসিবিকে তামিমের প্রশ্ন

ঋণখেলাপিতে আটকে যেতে পারেন কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল

তরুণ অফিসাররা র‍্যাব থেকে এমন চরিত্র নিয়ে ফিরত যেন পেশাদার খুনি: ইকবাল করিম ভূঁইয়া

আইসিসিকে নতুন করে চিঠিতে কী লিখেছে বিসিবি

সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে ইরানিদের বিক্ষোভ, ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত