Ajker Patrika

রাণীনগরে ধানখেতে ছড়িয়ে পড়ছে পাতা ঝলসানো রোগ, ওষুধ ছিটিয়েও মিলছে না রেহাই

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি 
রাণীনগরে ধানখেতে ছড়িয়ে পড়ছে পাতা ঝলসানো রোগ, ওষুধ ছিটিয়েও মিলছে না রেহাই
পাতা ঝলসানো রোগে আক্রান্ত হয়েছে ধানখেত। গতকাল বৃহস্পতিবার রাণীনগরের ভাটকৈ গ্রামের মাঠ থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

নওগাঁর রাণীনগরে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধানে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা ঝলসানো (বিএলবি) রোগ। এ রোগের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন কাজ হচ্ছে না। এতে বিঘাপ্রতি ধানের ফলন পাঁচ–ছয় মণ কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

তবে এমন পরিস্থিতিতেও মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তেমন দেখা মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাণীনগর উপজেলায় মোট ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে জিরাশাইল, কাটারিভোগ, ব্রি-৯০সহ বিভিন্ন জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে ধানে তেমন কোনো রোগবালাই ছিল না। তবে শিষ বের হওয়ার সময় ধানগাছের পাতার আগা থেকে শুকিয়ে ধীরে ধীরে পুরো গাছে ছড়িয়ে পড়ছে রোগটি। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন আগাছানাশক ছিটিয়ে গাছ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রোগের প্রভাব বাড়তে থাকলেও কৃষকদের পরামর্শ দিতে মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজারদের দেখা যায় না বলে অভিযোগ তাঁদের।

উপজেলার ভাটকৈ গ্রামের কৃষক সোনামদ্দীন জানান, তিনি এবার আট বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন। এর মধ্যে হঠাৎ করে আড়াই থেকে তিন বিঘা জমির ধান পাতামরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

মালশন গ্রামের কৃষক ওয়াজকরুনি জানান, তিনি এবার প্রায় ৩২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৫ বিঘা জমির ধানের পাতা শুকিয়ে গেছে। তাঁর ভাই আব্দুল বাকির প্রায় ২৫ বিঘা জমির ধান একই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ধান রক্ষা করতে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। মাঠে কোনো ব্লক সুপারভাইজার বা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ পাচ্ছি না। ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো ফল হচ্ছে না।’

জলকৈ গ্রামের কৃষক ফিরোজ হোসেন জানান, তিনি এবার প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন। এর মধ্যে কমবেশি প্রায় সব জমির ধান পাতামরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এটি বিএলবি রোগ বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তাঁর আশঙ্কা, এ রোগের কারণে বিঘাপ্রতি পাঁচ–ছয় মণ ধান কম ফলন হতে পারে।

তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি। ধান রোপণের পর গাছ ভালো থাকলেও অনাবৃষ্টি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঝড়-বৃষ্টির কারণে ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা ঝলসানো (বিএলবি) রোগের বিস্তার ঘটেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই ধান কাটা শুরু হবে, তাই এতে খুব বেশি ক্ষতির আশঙ্কা নেই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পলিসি গ্রুপের বৈঠক: নিয়ম বদলে ৪ হাজার এসআই নিয়োগের চিন্তা

নতুন শত্রু খুঁজছে ইসরায়েল, তালিকার শীর্ষে পাকিস্তান-তুরস্ক

শিশুর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যা

কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ

কুড়িগ্রাম আইনজীবী সমিতি: নতুন সদস্যভুক্তির ফি আড়াই লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত