Ajker Patrika

বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু বাড়ছে, ২ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ২১: ২৮
বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু বাড়ছে, ২ জনের মৃত্যু
মশক নিধনে বরিশাল নগরে বিসিসি কর্মীদের তৎপরতা। শুক্রবার দুপুরে তোলা। ছবি:আজকের পত্রিকা

বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। এ পর্যন্ত বিভাগে দুজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঝালকাঠি, বরগুনা ও পিরোজপুর জেলায়। এ পরিস্থিতিতে বরিশাল নগরসহ বিভাগের ছয় জেলার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিভাগে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ছিল ৪৮ জন। ৮ জুলাই এ সংখ্যা ছিল ৬৬, ৭ জুলাই ৬৬, ৬ জুলাই ৪৭, ৫ জুলাই ৬৩ ও ৪ জুলাই ৬০ জন।

সূত্রমতে, বিভাগে দুজন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এর মধ্যে ৮ জুলাই ৭৫ বছর বয়সী মনোয়ারা বেগম শেবাচিম হাসপাতালে মারা যান। তাঁর বাড়ি ঝালকাঠির পোনাবালিয়ায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে, আবার অনেকে সুস্থ হয়েও ফিরছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষাকালে প্রতিরোধ করা না গেলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থামানো কঠিন হবে।

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানান, তাঁর হাসপাতালে এখন দুজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছে। চলতি মাসে মোট রোগীর সংখ্যা আট। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। তবে তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার পরামর্শ দেন।

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ায় নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নগরের সার্কুলার রোডের বাসিন্দা মাসুদ আহমেদ বলেন, বর্ষায় ডেঙ্গু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সিটি করপোরেশন ওষুধ ছিটাচ্ছে। কিন্তু এটি নিয়মিত না করলে হামের মতো পরিস্থিতি হতে পারে।

জিয়া সড়কের বাসিন্দা ও বিক্রয় প্রতিনিধি আল আমিন বলেন, সড়ক ও খালের আশপাশে ময়লা পড়ে থাকছে। পানি জমে থাকছে। সেখানে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো দরকার।

এ বিষয়ে বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মশকনিধন কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বপন কুমার দাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, নগরীতে পাঁচটি টিমে মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া জরুরি টিম যেখানে দরকার হচ্ছে, সেখানে কাজ করছে।

স্বপন কুমার দাস বলেন, ৪২ জন শ্রমিক, ৪৫টি হ্যান্ডস্প্রে ও ৩০টি ফগার মেশিন দিয়ে মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, সচেতনতার জন্য মাইকিং করা হয়েছে এবং ২০ হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বিভাগীয় কমিশনারসহ সবাইকে নিয়ে সভা ও র‍্যালি করেছেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, জনগণ সচেতন না হলে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যাবে না। তিনি বলেন, ডেঙ্গুরোধে ঘরে ঘরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বাড়ির আশপাশে মশা ডিম পাড়ছে কি না, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। কোথাও পানি জমিয়ে রাখা যাবে না।

এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, জ্বর হলে আগেভাগে চিকিৎসক দেখাতে হবে এবং দরকার হলে নিকটস্থ হাসপাতালে রোগীকে ভর্তি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সব হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত