Ajker Patrika

ডিজেল-সংকটে চাটমোহরে বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা

শুভাশীষ ভট্টাচার্য্য তুষার, চাটমোহর (পাবনা)
ডিজেল-সংকটে চাটমোহরে বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা
পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক গভীর নলকূপ থেকেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় ডিজেল-সংকটের কারণে বোরো ধান আবাদ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা। ভরা সেচ মৌসুমে তীব্র লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি ডিজেলের ঘাটতিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে বোরো ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে চলনবিল অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক গভীর নলকূপ থেকেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষককে গভীর গর্ত করে পাম্প বসাতে হয়েছে। কোনোভাবে পানি পাওয়া গেলেও চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না থাকায় বেশির ভাগ সময় সেচপাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

ডিজেল-সংকটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বোরো ধান উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়া এবং খোলাবাজারে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এতে আর্থিক চাপের পাশাপাশি ফলন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, ধানের শিষ বের হওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিয়মিত সেচ দিতে না পারলে ফলনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এ উপজেলায় বোরোসহ প্রায় ১ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ১২৬টি ডিজেলচালিত সেচপাম্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন এ উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সপ্তাহে মিলছে মাত্র ১০ হাজার লিটার।

উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের কৃষক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ডিজেল-সংকটের কারণে ফসল উৎপাদনের খরচ বেড়ে গেছে। বাইরে থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। ধান এখন থোড় অবস্থায় রয়েছে, কিছু জমিতে শিষ বের হচ্ছে। এ সময় সেচ দিতে না পারলে ধান চিটা হয়ে যাবে এবং ফলন কমে যাবে।

ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের বালুদিয়ার গ্রামের কৃষক জিয়ারুল হক জিয়া বলেন, ‘গত শনিবার পাম্প থেকে ডিজেল দেওয়া হয়েছিল, আজ মঙ্গলবার (গতকাল) আবার দেওয়া হচ্ছে। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কখন পাব জানি না। বাইরে থেকে দুদিন ১৪০ টাকা দরে ডিজেল কিনেছি। পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়া এবং ১২০ ফুট গভীরেও পানি না পাওয়ায় অনেক কৃষক সেচ দিতে পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বোরো আবাদে প্রভাব পড়বে।

এদিকে বিভিন্ন মাঠে কৃষকেরা বোরো ধানের জমিতে আগাছা পরিষ্কার ও বালাইনাশক স্প্রে করছেন। দিগন্তজোড়া মাঠ এখন সবুজের সমারোহে ভরে উঠেছে। তবে লোডশেডিং ও সেচ-সংকট কাটলে চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, বোরো ধানের উৎপাদনে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত