Ajker Patrika

সবজির জেলায়ও চড়া দাম, টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন ও সরবরাহ কম

হারুনুর রশিদ, রায়পুরা (নরসিংদী)
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৫: ৫৫
সবজির জেলায়ও চড়া দাম, টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন ও সরবরাহ কম
নরসিংদীর বারৈচা বাসস্ট্যান্ডের সাপ্তাহিক সবজির হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা দরদাম করছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

সবজির ভান্ডার হিসেবে পরিচিত নরসিংদী জেলায় ভরা মৌসুমেও সবজির বাজারে আগুন। টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমেছে। ফলে জেলার পাইকারি ও খুচরা—দুই বাজারেই বেড়েছে সবজির দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে ভালো দাম পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মুখে।

আজ শনিবার জেলার বিভিন্ন পাইকারি হাট ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে শত শত পাইকার সবজি কিনতে আসছেন। স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে দরদাম করে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা সবজি সংগ্রহ করছেন। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে।

কৃষকেরা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহও কমেছে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। তবে উৎপাদন কম থাকায় অনেক কৃষকই বাড়তি দামের সুবিধা পুরোপুরি নিতে পারছেন না।

ক্রেতাদের অভিযোগ, উৎপাদন কমার সুযোগে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংসারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, জেলার রাধাগঞ্জ, চরসুবুদ্দি, পুটিয়া, মাহমুদাবাদ নামাপাড়া, জংলী শিবপুর, গোকুলনগর, বারৈচা, নারায়ণপুর ও মরজালসহ বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহজুড়ে পর্যায়ক্রমে বসে সবজির হাট। রায়পুরা, বেলাব ও শিবপুর উপজেলায় সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হয়। এসব এলাকার উৎপাদিত সবজি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়।

পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০, লম্বা শিম ৯০ থেকে ১০০, বেগুন ৮০ থেকে ৯০, ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৮০, কাঁচা মরিচ ২৫০, টমেটো ১০০ থেকে ১১৫, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০, ধনেপাতা ৪০ থেকে ৫০, পটোল ৭০, শসা ৬০, করলা ৮০ থেকে ৯০, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০, গাজর ১০০, পেঁপে ৩০, চালকুমড়া ৪০, মিষ্টি লাউ ৫০ থেকে ৮৫, লাউ ৬০ থেকে ৭০ , ফুলকপি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং পুঁইশাক, লালশাক ও ধনেপাতা ১৫ থেকে ২৫ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নরসিংদীর বারৈচা বাসস্ট্যান্ডের সাপ্তাহিক সবজির হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা দরদাম করছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা
নরসিংদীর বারৈচা বাসস্ট্যান্ডের সাপ্তাহিক সবজির হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা দরদাম করছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

অন্যদিকে খুচরা বাজারে আলু ৩৫ টাকা, পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০, ঢ্যাঁড়স ৯০ থেকে ১০০, বেগুন ১০০, লম্বা শিম ১০০ থেকে ১২০, কাঁচা মরিচ ৩৩০, টমেটো ১৩০, শসা ৭০ থেকে ৮০, পেঁপে ৩৫, লাউ ৮০ থেকে ৯০, মিষ্টি লাউ ৭৫ থেকে ৯০ টাকা এবং বিভিন্ন শাক ২০ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী সজীব মিয়া বলেন, ‘নরসিংদীর বিভিন্ন হাট থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাকে সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এখন বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’

রায়পুরার কৃষক রিপন মিয়া বলেন, ‘১৪ শতক জমিতে ঢ্যাঁড়স চাষে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আজ ৮ কেজি ঢ্যাঁড়স ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। আশা করছি, এবার কিছুটা লাভ হবে।’

উত্তর বাখরনগর গ্রামের কৃষক স্বপন বিশ্বাস বলেন, ‘১৬ শতক জমিতে সবজি চাষে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করেছি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে। দাম বাড়লেও উৎপাদন না থাকায় কোনো লাভ নেই।’

কৃষক কালাম, নয়ন মিয়া, স্বপন বিশ্বাস, আব্দুল মালেক, শ্যামল, কাওছারসহ অনেক কৃষকের দাবি, কৃষিযন্ত্র, ডিজেল, সার ও কীটনাশকের দাম কমাতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

দূর থেকে আসা পাইকার আব্দুর রহিম বলেন, ‘নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন কোনো না কোনো সবজির হাট বসে। এখানকার সবজির মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন আড়তে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।’

খুচরা বিক্রেতা কবির মিয়া বলেন, ‘হাটে পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে, তা-ও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আজিজুল হক বলেন, ‘এ বছর সবজির আবাদ বেড়েছে। নরসিংদীর উৎপাদিত সবজির মান ভালো হওয়ায় দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানিও বাড়ছে। উৎপাদন ও রপ্তানি আরও বাড়াতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত