Ajker Patrika

রাতে ঘুমানোর পর নিখোঁজ বৃদ্ধা, ৩ দিন পর খালে অর্ধগলিত মরদেহ

ফরিদপুর প্রতিনিধি
রাতে ঘুমানোর পর নিখোঁজ বৃদ্ধা, ৩ দিন পর খালে অর্ধগলিত মরদেহ
প্রতীকী ছবি

ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের উত্তর সাদিপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর জাবেদা বেগম (৬৬) নামে এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকালে স্লুইসগেট-সংলগ্ন খালের পানিতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরিবারের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে সকাল ৯টায় মরদেহ উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

নিহত জাবেদা বেগম আলিয়াবাদ ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামের মৃত কোরবান শিকদারের স্ত্রী। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

পরিবারের সদস্য ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর আগে জাবেদা বেগমের স্বামী কোরবান শিকদার মারা যান। এরপর স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত জরাজীর্ণ টিনের ঘরে একাই থাকতেন জাবেদা বেগম। তাঁদের আরেকটি পাকা ভবনে দুই ছেলের পরিবার বসবাস করে। দুই ছেলে চাকরির সুবাদে অন্যত্র থাকেন এবং একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ৬ আগস্ট রাত ১০টায় সবাই একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। জাবেদা বেগম প্রতিদিনের মতো টিনের ঘরের একটি খাটে ঘুমিয়েছিলেন। সকালে তাঁকে ডাকতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা একটি দরজা খোলা দেখতে পান। তাঁর ব্যবহৃত স্যান্ডেল খাটের পাশেই পড়ে ছিল।

পরিবারের সদস্যরা পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও জাবেদা বেগমের সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। আজ সকালে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে স্লুইসগেট-সংলগ্ন খালে একটি মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে স্বজনেরা সেখানে গিয়ে পরিচয় শনাক্ত করেন।

নিহতের মেয়ে হ্যাপি বেগম বলেন, ‘আমার মাকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। কারা, কী কারণে আমার মাকে এভাবে মেরে ফেলল, জানি না। প্রশাসনের কাছে দাবি, তারা যেন দ্রুত তদন্ত করে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে।’

স্বজনেরা জানান, জাবেদা বেগম যে ঘরে থাকতেন, সেখানে একাধিক দরজা রয়েছে। ঘটনার দিন অব্যবহৃত একটি দরজা খোলা ছিল, যা সচরাচর খোলা হয় না বলে তাঁদের দাবি। গভীর রাতে এক প্রতিবেশী টিনের শব্দ শুনেছিলেন। পরে টর্চলাইট জ্বালিয়ে কিছু দেখতে না পেয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন বলে স্বজনেরা জানান।

ঘটনার পর নিহতের বাড়িতে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমীর হোসেন বলেন, মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত