Ajker Patrika

জোয়ারে বিধ্বস্ত হাতিয়ার বেড়িবাঁধ, আতঙ্কে উপকূলবাসী

­হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
জোয়ারে বিধ্বস্ত হাতিয়ার বেড়িবাঁধ, আতঙ্কে উপকূলবাসী
হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রাম থেকে আজ সকালে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বৈরী আবহাওয়া ও অস্বাভাবিক জোয়ারে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চার ইউনিয়নের প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে কয়েকটি গ্রাম। দ্রুত মেরামত করা না হলে বর্ষার শেষ দিকে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলো হলো—চরঈশ্বর, নলচিরা, চরকিং ও সোনাদিয়া। এসব এলাকার লক্ষাধিক মানুষ এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়া গ্রামের কাছাকাছি চলে এসেছে ভাঙন। ছবি: আজকের পত্রিকা
উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়া গ্রামের কাছাকাছি চলে এসেছে ভাঙন। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের বসবাস হাতিয়া উপজেলায়। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই বসবাস করেন এখানকার মানুষ। চলতি বর্ষার শুরুতে ভারী বৃষ্টি এবং মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারে দ্বীপটির বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েন কয়েক লাখ মানুষ।

নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়া গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম জানান, জোয়ারের ঢেউয়ের আঘাতে তাঁদের এলাকার বেড়িবাঁধ সরু হয়ে গেছে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে যেতে পারে। বাঁধ ভেঙে গেলে বসতবাড়ি হারিয়ে পানিতে ভাসতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘আমরা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছি। কিন্তু এখন আমাদের দেখার কেউ নেই। আমরা পানিতে ভেসে যাওয়ার শঙ্কায় আছি।’

একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, ‘রাতে জোয়ারের পানির শব্দে ঘুম আসে না। মনে হয়, এই বুঝি বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। অনেকে ভয় পেয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সরিয়ে রাখা হয়েছে।’ তিনি জানান, আসন্ন পূর্ণিমার জোয়ারে দুর্বল হয়ে যাওয়া বাঁধ ভেঙে বড় এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নলচিরা ইউনিয়নের উত্তর পাশের ক্ষতিগ্রস্ত চারটি স্থানে দ্রুত মেরামতের দাবি জানান তিনি।

এর আগে চরঈশ্বর ইউনিয়নের আফাজিয়া এলাকায় অস্বাভাবিক জোয়ারের আঘাতে প্রায় ৩০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদ উদ্দিন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন ঠেকালেও আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো এখনো মেরামত করা হয়নি। তিনি বলেন, ওই এলাকায় কোথাও কোথাও বাঁধ মাত্র এক ফুটের মতো টিকে আছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মন্নান জানান, স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে গাছের ডাল, গাছের গুঁড়ি ও মাটির বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে বড় জোয়ারে তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, বাঁধ ভেঙে গেলে ফসলি জমি, মাছের ঘের, বসতঘর, রাস্তাঘাট, গবাদিপশুসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, বড় ধরনের ক্ষতির আগে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘এ বছর অস্বাভাবিক জোয়ারের পাশাপাশি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে হাতিয়ার চারটি ইউনিয়নে প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জেলা অফিসে জমা দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত