Ajker Patrika

মাদারীপুরে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে ভাঙন, আতঙ্কে পাড়ের মানুষ

মাদারীপুর, প্রতিনিধি
মাদারীপুরে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে ভাঙন, আতঙ্কে পাড়ের মানুষ
মাদারীপুরে পদ্মা, আড়িয়াল খা ও পালরদী নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাদারীপুরে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের তীব্রতায় পদ্মা, আড়িয়াল খা ও পালরদী নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙন ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হলেও স্রোতের কারণে তা তেমন কার্যকর হচ্ছে না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলায় প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা, পালরদী, ময়নাকাটা, বিষারকান্দি, কুমার, কীর্তিনাশাসহ ১৫টি নদ-নদী রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে জেলার সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। সেই সঙ্গে স্রোতের তীব্রতা বাড়ায় নদীভাঙনও বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাদারীপুরে পদ্মা, আড়িয়াল খা ও পালরদী নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
মাদারীপুরে পদ্মা, আড়িয়াল খা ও পালরদী নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাদারীপুর সদরের খোয়াজপুর, টেকেরহাট, পাচখোলা ইউনিয়নের উত্তর মহিষেরচর, পূর্ব মহিষেরচর এলাকার আচমত আলী খান ব্রিজসংলগ্ন এলাকা, বাহাদুরপুর, দুধখালী, শ্রীনদী, শিড়খাড়া ইউনিয়নের চর ঘুনসি, কালকিনি উপজেলার খুনেরচর, খাশেরহাট, সিডিখান এলাকার নতুন চরদৌলত খা এলাকা, করিম খানের হাটসহ শিবচর, রাজৈর ও ডাসার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ইতিমধ্যে অনেক পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে ঘরবাড়ি হারিয়েছে। অনেক এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বহু স্থাপনা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভাঙন প্রতিরোধে সাড়ে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ হাজার বালুর বস্তা বিভিন্ন এলাকায় ফেলা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কালকিনি উপজেলার খুনেরচর এলাকার কৃষক মো. জয়নাল বলেন, `আড়িয়াল খা নদে আমার ঘরবাড়ি একাধিকবার ভেঙেছে। এই নদ আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। ৫ বছর আগে বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। তা স্রোতের টানে হারিয়ে গেছে। এবারও কিছু বালুর বস্তা ফেলেছে। তাও খুব কম। এগুলো তেমন একটা কাজে আসেনা। এখানে একটি স্থায়ী বেড়িবাধ নির্মাণ করা হলে কাজ হতো।'

মাদারীপুর সদর উপজেলার মহিষেরচর এলাকার জয়নাল হোসেন বলেন, `আমার বাসার সামনেই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিবছরই এখানে ভাঙন দেখা দেয়। জিও ব্যাগ ফেললেও তা কাজে আসে না। এখানে একটি স্থায়ী বাধ নির্মাণ করা হলেই দীর্ঘদিনের নদী ভাঙন সমস্যা দূর হবে।'

পূর্ব মহিষেরচর এলাকার শাহেরুর বিবি বলেন, `এখানে প্রতিবছরই নদী ভাঙে। ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির খুব কাছে চলে এসেছে নদী। তাই আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।'

মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের খান বলেন, `জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়, ভাঙন বেড়েছে। তাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে প্রকল্প অনুমোদন হলে এলাকাবাসীর চাওয়া অনুযায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। তাছাড়া ভাঙন বাড়ার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে, যাতে করে এই ভাঙন কিছুটা হলেও রোধ করা যায়।'

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত