Ajker Patrika

তোফাজ্জল হত্যার দুই বছর: চার্জ গঠনের অপেক্ষায় পরিবার

তারিকুল ইসলাম কাজী রাকিব, পাথরঘাটা (বরগুনা) 
তোফাজ্জল হত্যার দুই বছর: চার্জ গঠনের অপেক্ষায় পরিবার
ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে হত্যার শিকার তোফাজ্জল হোসেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার। এ উপলক্ষে তাঁর গ্রামের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের তালুকের চরদুয়ানী গ্রামে খতমে কোরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।

তোফাজ্জল হোসেন (৩২) তালুকের চরদুয়ানী গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে। তিনি বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে বাংলা বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে তোফাজ্জলের বাবা আবদুর রহমান মারা যান। এর তিন বছর পর মারা যান তাঁর মা। বাবা-মাকে হারানোর পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তোফাজ্জল। পরে বড় ভাই নাসিরের আশ্রয়ে থাকলেও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনিও মারা যান। এরপর অনেকটা অভিভাবকহীন হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করে জীবনযাপন করতেন তোফাজ্জল। একপর্যায়ে ঢাকায় অবস্থান শুরু করেন এবং মাঝে মাঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাঁর পরিচিতদের কাছেও যেতেন।

২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জলকে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে কয়েক দফায় মারধর করা হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন তাঁর মামাতো বোন তানিয়া। মামলার তদন্ত শেষে প্রথম দফায় ২১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আবেদনের পর মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে পাঠানো হয়।

প্রথম দফার অভিযোগপত্রে আসামিরা হলেন—মো. জালাল মিয়া, সুমন মিয়া, মো. মোত্তাকিন সাকিন, আল হোসেন সাজ্জাদ, আহসান উল্লাহ, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, শাকিব রায়হান, ইয়াসিন আলী গাইন, ইয়ামুজ্জামান ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ও আব্দুল্লাহহিল ক্বাফি।

পরে অধিকতর তদন্তে শেখ রমজান আলী, রাশেদ কামাল অনিক, মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সীকে আসামি করা হয়। এতে মামলায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮ জনে।

তোফাজ্জলের হত্যা মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান আজকের পত্রিকাকে জানান, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালত গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি। এরপর অভিযোগ গঠন হলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান আরও জানান, মামলায় প্রথমে আটজনকে আসামি করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে ঘটনার দিন গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তদন্তে আসামির সংখ্যা বাড়তে থাকে। অধিকতর তদন্ত শেষে মামলায় মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তোফাজ্জলের গ্রামের বাড়ি পাথরঘাটার তালুকের চরদুয়ানী গ্রামে শুক্রবার জুমার নামাজের পর খতমে কোরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে তোফাজ্জলের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচারের জন্য বিশেষ দোয়া করা হবে।

তোফাজ্জলের চাচা ফজলুর রহমান বলেন, দুই বছর ধরে তাঁরা প্রিয় মানুষটির হত্যার বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। দ্রুত অভিযোগ গঠন করে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত