Ajker Patrika

কালিহাতীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট: কঠিন বর্জ্য কঠিনই আছে

  • ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তবে সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি এর কাজ
  • ২০২২ সালের ১ মার্চ কার্যাদেশ পায় ‘টার্ন-এনসি (জেভি)’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
  • কার্যাদেশ অনুযায়ী আট মাসের মধ্যে অবকাঠামোর কাজ শেষ করার কথা
  • আধুনিক মেশিন সরবরাহের জন্য ২০২৪ সালের ১২ মার্চ কার্যাদেশ দেওয়া হলেও তা আসেনি
আনোয়ার সাদাৎ ইমরান, টাঙ্গাইল 
কালিহাতীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট: কঠিন বর্জ্য কঠিনই আছে
টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভায় সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি ‘সমন্বিত কঠিন ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’ তৈরির কাজ। গতকাল সিলিমপুরে। ছবি: আজকের পত্রিকা

আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কঠিন ও মানব বর্জ্য পরিশোধন করে জৈবসার এবং বায়োগ্যাস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভা। এ জন্য সাড়ে চার বছর আগে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল ঢাকার ‘টার্ন-এনসি (জেভি)’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। কার্যাদেশ অনুযায়ী আট মাসে কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু এখনো অবকাঠামোর কাজই শেষ হয়নি। সাড়ে চার বছরে জৈব সার কিংবা বায়োগ্যাস—কোনোটাই উৎপাদন হয়নি।

পৌরসভা কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ১৫.৫২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কালিহাতী পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ড ও ১৮টি মহল্লা নিয়ে গঠিত এ পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার। পৌরসভায় প্রতিদিন গড়ে দেড় টন কঠিন ও তরল বর্জ্য তৈরি হয়। কিন্তু পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা ময়লা ফেলার জায়গা না থাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন পৌরবাসী। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে নানা জটিলতা।

এর থেকে পরিত্রাণ পেতে পৌর কর্তৃপক্ষ ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সমন্বিত কঠিন ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’ করার উদ্যোগ নেয়। এ প্রকল্পে রয়েছে প্ল্যান্টেড ড্রায়িং বেড ও অ্যানেরোবিক ব্যাফেল রিঅ্যাক্টর (এবিআর), যা মানববর্জ্যের তরল অংশকে ক্ষতিকারক উপাদানমুক্ত করবে। কনস্ট্রাক্টেড ওয়েটল্যান্ড ও পলিশিং পন্ড—পানিকে পুরোপুরি শোধন করে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার ইউনিট। কম্পোস্ট শেড ও সর্টিং শেড—যেখানে বর্জ্য এনে জমা ও প্রক্রিয়াজাত করা হবে। লিচেট ট্যাংক ও কমবাসশন ইউনিট—ময়লা থেকে নির্গত দূষিত তরল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। এ ছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য রয়েছে পার্কিং শেড, অফিস রুম এবং সিকিউরিটি রুমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ইউনিট।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, প্ল্যান্টটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এটি হবে এই অঞ্চলের জন্য একটি আশীর্বাদ। এখানে শহরের সব বর্জ্য এনে প্রথমে লোহালক্কড়, প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল, কাঠ এবং কাচের মতো অপচনশীল দ্রব্যগুলো আলাদা করা হবে। এরপর পচনশীল বর্জ্য এবং শুকনো মানববর্জ্যকে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে অত্যন্ত উন্নতমানের উর্বর কম্পোস্ট জৈবসার উৎপাদন করা হবে। অন্যদিকে, উৎপাদিত হবে প্রাকৃতিক গ্যাস।

২০২২ সালের ১ মার্চ কার্যাদেশ পায় ঢাকার ‘টার্ন-এনসি (জেভি)’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিকে আট মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়। কিন্তু সাড়ে চার বছরেও প্রকল্পের অবকাঠামো তৈরি হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্ল্যান্টের চার পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে মূল শোধনপ্রক্রিয়ার অন্যতম অঙ্গ কমবাসশন মেশিনের জন্য নির্ধারিত শেড তৈরি হয়নি।

প্রকল্পের ঠিকাদার নূরে আলম টিটু জানান, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা, স্থানীয় এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, নিচু এলাকা হওয়াতে মাটি ভরাটে সমস্যা এবং দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকার কারণে নির্মাণকাজ অনেকখানি পিছিয়ে গেছে।

এদিকে, প্রকল্পের বর্জ্য পুড়িয়ে ধ্বংস করার মূল চালিকাশক্তি ‘কমবাসশন মেশিন’ আনার প্রক্রিয়াও থমকে আছে। ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আধুনিক মেশিন সরবরাহের জন্য ২০২৪ সালে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল ‘লাবণী-কেএইচটি (জেভি)’ নামের আরেকটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। এক বছরের মধ্যে মেশিন সরবরাহের চুক্তি থাকলেও এখনো মেশিন সরবরাহ করা হয়নি।

মেশিন সরবরাহে ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করে ঠিকাদার সাদেকুল ইসলাম কাঞ্চন বলেন, গত বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে ব্যাংক এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে জটিলতা ছিল। এই এলসি সমস্যার কারণে যথাসময়ে মেশিনটি আনা সম্ভব হয়নি।

কালিহাতী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নানাবিধ কারণে এটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত