Ajker Patrika

এনসিসিসি সভায় অনুমোদন: মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে নতুন নিবন্ধ

  • নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ।
  • নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা।
  • থাকবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ।
রাহুল শর্মা, ঢাকা 
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ৩৩
এনসিসিসি সভায় অনুমোদন: মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে নতুন নিবন্ধ

আগামী শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের পাঠে পরিবর্তন আসছে। নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা। পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সূত্রে এসব জানা গেছে।

সূত্র বলেছে, গত ২৪ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এসব বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এনসিসিসি কমিটি ষষ্ঠ থেকে নবমের চার শ্রেণির ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ বই যুগোপযোগী করা, ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘তৃতীয় ভাষা’ শিরোনামে নতুন প্রবন্ধ এবং ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে সাত বীরশ্রেষ্ঠর জীবন ও কর্ম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ব্রিগেড ফোর্সের তথ্যাবলিও যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

এনসিটিবির সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো দিনটিকে ‘বিপ্লব ও সংহতি

দিবস’ হিসেবে পালন করে। এ ছাড়া নবম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলি যুক্ত করা হচ্ছে।

এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ৭ নভেম্বরের ঘটনা-প্রবাহের প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিকতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার জন্য বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র আরও বলেছে, অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার অবদানের ইতিহাস যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে গণ-অভ্যুত্থানের পর সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর ভূমিকা প্রবন্ধে উল্লেখ করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী বছরের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে দেশের ইতিহাসকে আরও দীর্ঘ ধারাবাহিকতায় উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রাচীন বাংলা থেকে আধুনিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ব্যক্তিত্বকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের নতুন সংস্করণে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আলাদা অংশ যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে প্রাচীন বাংলার পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট গোপাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জীবন, কর্ম ও অবদান তুলে ধরা হবে। সম্ভাব্য তালিকায় সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

সূত্র বলেছে, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ের ২২ নম্বর গদ্যে ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নতুন গদ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নিবন্ধটির লেখক হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম থাকছে। লেখক পরিচিতিতে জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের সামরিক কর্মকর্তা, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার, বীর উত্তম, সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি পরিচয় দেওয়া হয়েছে। নতুন বইয়ে নিবন্ধটির আগে একটি ব্যাখ্যামূলক অংশও রাখা হয়েছে। সেখানে ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ১৯৮০ সালে ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’কে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিকথা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে গতকাল বুধবার এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম শওকত আলী খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ইতিহাসের যেসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বিভিন্ন সময়ে যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি বা আংশিকভাবে এসেছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন ও সংশোধন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা দলের দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে নয়; বরং নির্মোহভাবে প্রকৃত ইতিহাস শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এনসিটিবি প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অতীতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও প্রয়াত এইচ এম এরশাদের আমলেও পাঠ্যবই পরিমার্জন করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের করা নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। একই সঙ্গে পাঠ্যবই পরিমার্জন করা হয়। ২০২৫ সালে পঞ্চম থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য সংযোজন করা হয়। বাদ দেওয়া হয় বিভিন্ন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ ও ইতিহাসবিষয়ক তথ্য। এরপর চলতি বছরের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ইতিহাসের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত