Ajker Patrika

কিশোরগঞ্জে এইচআইভিতে আক্রান্ত ২৬ জন, সরকারি হিসাবে শূন্য

সাজন আহম্মেদ পাপন, কিশোরগঞ্জ 
কিশোরগঞ্জে এইচআইভিতে আক্রান্ত ২৬ জন, সরকারি হিসাবে শূন্য
‘প্রতি ছয় মাসে একবার ইনজেকশন নেওয়ার বিকল্পটি নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার অনীহা, সামাজিক অপবাদ ইত্যাদির মতো বাধা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। ছবি: ডেপোসিট ফটোস

কিশোরগঞ্জে ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ২৬ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ নামের একটি আন্তর্জাতিক সমাজসেবী সংস্থা। তাদের মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৯ জন। তবে সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, কিশোরগঞ্জে এখন পর্যন্ত কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত ২৬ জনের মধ্যে ২২ জন ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন ভৈরব, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, নিকলী, অষ্টগ্রাম ও কটিয়াদী উপজেলা থেকে। বাকি সাতটি উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকা থেকে শনাক্ত হয়েছেন চারজন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত শনাক্ত ৯ জনের মধ্যে ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন উপজেলাগুলো থেকে পাঁচজন এবং কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকা থেকে চারজন শনাক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সংস্থাটি কিশোরগঞ্জে গোপনে এইচআইভি শনাক্তকরণ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০১০ সাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ কার্যক্রম চলছে। তবে শনাক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাঁদের বসবাসের নির্দিষ্ট এলাকা প্রকাশ করতে রাজি হয়নি সংস্থাটি। তারা জানিয়েছে, এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিচয় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় বিষয়। সেই গোপনীয়তা রক্ষা করেই তাদের পরীক্ষা করা হয়েছে।

সংস্থাটির ম্যানেজার জানান, কারও শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হলে তাঁকে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) চিকিৎসার আওতায় আনা হয়। বিনা মূল্যে এ চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ফলোআপ করা হয়।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি শনাক্তের কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভাসমান মানুষ, হিজড়া জনগোষ্ঠী, ট্রাকচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী, যৌনকর্মী, পোশাকশ্রমিক ও বিদেশফেরত ব্যক্তিরা রয়েছেন। তবে শনাক্ত ২৬ জনের মধ্যে কোন জনগোষ্ঠীর কতজন রয়েছেন, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সমন্বয় সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি আতা মোহাম্মদ ওবায়েদ বলেন, ‘এটি অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। কিশোরগঞ্জ হাওরবেষ্টিত জেলা। ভৈরবে গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন রয়েছে। এ ছাড়া সড়ক ও নৌপথেও মানুষের চলাচল রয়েছে। এসব কারণে এইচআইভি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদ আহমেদ বলেন, ‘এইচআইভির বিস্তার শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও মানবিক সংকটও। সচেতনতার ঘাটতি, ভুল তথ্য, সামাজিক স্টিগমা ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ মানুষকে সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।’

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন) আবিদুর রহমান ভূইয়া বলেন, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ এবং ব্যবহৃত বা অপরিষ্কার সুচ ও সিরিঞ্জ ভাগাভাগির মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমেও গর্ভাবস্থা, প্রসব বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর সংক্রমণ হতে পারে।

তিনি বলেন, প্রবাসফেরত জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

তবে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিটি উপজেলায় এইচআইভি শনাক্তের জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং স্বাস্থ্য বিভাগের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত