Ajker Patrika

বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের পরিকল্পনা আগামী সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করব: প্রধানমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ১৫
বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের পরিকল্পনা আগামী সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করব: প্রধানমন্ত্রী
আজ বেলা সাড়ে ১১টার পর ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে আগামী ১০ বছরের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলায় সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলা করতে হলে ঠান্ডা মাথায় ধীরে ধীরে এগোতে হবে।

আজ রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার পর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ-সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি সারা বাংলাদেশের মানুষ বিদ্যুতের কষ্ট ভোগ করছেন এই মুহূর্তে। কিন্তু এই যে বিদ্যুতের সমস্যা এই সমস্যা স্বৈরাচার, যে স্বৈরাচারকে এই দেশের মানুষ বিতাড়িত করেছে তাদের অপরিকল্পিত পরিকল্পনার জন্য, অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য আজকে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির এই অবস্থা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৭ তারিখে আবার জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। সেই জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আপনাদের সরকার উপস্থাপন করবে কিভাবে আগামী ১০ বছর এই দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করব। সেই পরিকল্পনা আমরা দেশের জনগণের সামনে উপস্থাপন করব পবিত্র জাতীয় সংসদে।

তারেক রহমান বলেন, আজ বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে, বিদ্যুতের সংকট, যেকোনো সংকট যদি মোকাবিলা করতে হয় ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সংকট যদি মোকাবিলা করতে হয় ঠান্ডা মাথায় ধীরে ধীরে সংকটের মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি এই সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে। রাজপথে যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ। তাদের ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষতি হয়। তাদের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু উপকৃত হয় সে সকল বিশৃঙ্খলাকারী।

মাছের পোনা অবমুক্তকরণের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে এখানে যে মৎস্য অবমুক্তকরণ হলো, যখন বড় হবে, মাছগুলো যখন ডিম পাড়বে, খালে বিলে ঢুকবে তখন উপকার কাদের হবে? ওই লন্ডনের মানুষের উপকার হবে নাকি জাপানের মানুষের উপকার হবে? বাংলাদেশের মানুষের উপকার হবে।

খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম খাল খনন কর্মসূচি আমরা শুরু করব। আলহামদুলিল্লাহ আমরা সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। তিনি বলেন, খাল খননের ফলে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে খালের আশপাশের মানুষও পানির সুবিধা পাবেন। এর অংশ হিসেবে নদী ও বড় বড় খালে পর্যায়ক্রমে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে।

নারী শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের শিক্ষা অনার্স পর্যন্ত ফ্রি করে দেওয়া হবে। সকল খরচ সরকার বহন করবে। ভালো ফলাফল করা ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ বাচ্চাকে স্কুল ড্রেসের সঙ্গে স্কুল ব্যাগও পৌঁছে দিতে চাই।

নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে ৪ কোটি পরিবারের মধ্যে প্রত্যেকটি পরিবারের প্রধান যে মা, যে সংসারটি চালায় তার হাতে পর্যায়ক্রমে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কার্ডের মাধ্যমে আমরা বছরে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করবো। শুধু তাই নয় এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তাদের কাছে সার, বীজ, কীটনাশক পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবো।

বাংলাদেশকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যে পরিকল্পনা গ্রহণ করলে, যে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে, মানুষের ভাগ্য বিশেষ করে গ্রামে খাটা মানুষের ভাগ্য উপজেলায় থাকা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, আমরা সেই কাজগুলো করতে চাই।

দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সময় হচ্ছে কাজ করার। এখন সময় হচ্ছে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

তারেক রহমান আরও বলেন, আমাদের সবাইকে হাতে হাত রেখে কাজ শুরু করতে হবে। রাষ্ট্র মেরামতের কাজ শুরু করতে হবে। আমাদেরকে একসঙ্গে হাতে হাত রেখে কাজ শুরু করতে হবে। কী কাজ? দেশ পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে। কারণ এই দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ।

অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত