Ajker Patrika

নরসিংদীতে অজ্ঞাত রোগে শতাধিক ছাগলের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা

হারুনূর রশিদ, নরসিংদী
নরসিংদীতে অজ্ঞাত রোগে শতাধিক ছাগলের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা
নরসিংদীর রায়পুরায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল। ছবি: আজকের পত্রিকা

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় দুটি গ্রামে গত এক সপ্তাহে অজ্ঞাত রোগে শতাধিক ছাগল মারা গেছে। এতে খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকে তাঁদের অসুস্থ ছাগল কম দামে কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের উত্তর বাখরনগর ও রতনপুর গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে দুটি গ্রামে শতাধিক ছাগল মারা গেছে। খামারিরা জানান, হঠাৎ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, পেট ফোলা, লোম খাড়া হয়ে যাওয়া, শরীরে কাঁপুনির মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাণীগুলো মারা যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকেই অসুস্থ ছাগল কম দামে স্থানীয় হাটবাজার বা কসাইদের কাছে বিক্রি করছেন। তবে অসুস্থতার কারণ জানতে বা ছাগলের চিকিৎসা করাতে অনেকেই উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে যেতে অনীহার কথা জানান। তাঁরা বলছেন, ছাগল নিয়ে হাসপাতালে গেলে তাঁদের অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। খরচ ও ঝামেলা এড়াতে তাঁরা ছাগলের চিকিৎসা করাতে ইচ্ছুক নন।

রতনপুর গ্রামের শ্যামল মিয়া বলেন, ‘এক সপ্তাহে আমার পাঁচটি ছাগল মারা গেছে। প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত সরকারি তদারকি বাড়ানো জরুরি। গ্রামে ছাগল পালনে নারীদের অবদান অনেক। এমন পরিস্থিতিতে তাঁরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

একই গ্রামের মুশাররফ পারভেজ বলেন, ‘অজানা রোগে গ্রামে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভয়ে বাকি ছাগলগুলো পানির দামে বিক্রি করে দিয়েছি। এখন গোয়াল খালি। আমার মায়ের পালা একটি ছাগলও মারা গেছে। সরকারিভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে উপকার হতো।’

স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক পংকজ বিশ্বাস বলেন, রোগটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। রোগ শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

এদিকে গতকাল বিকেলে রতনপুর এলাকা থেকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সার্জনসহ একটি টিম একটি মৃত ছাগলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে আসা পলাশতলী গ্রামের এক নারী উদ্যোক্তা বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ছাগল পালন করি। আশপাশে অনেকের ছাগল মারা গেছে। নিজের ছাগল জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় ভয়ে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।’

রায়পুরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পিপিআর ছাগলের একটি সংক্রামক ভাইরাস রোগ। উপজেলায় প্রায় ২৯ হাজার ছাগল রয়েছে। এর মধ্যে গত আট মাসে ২৭ হাজার ৭০০টি ছাগলকে টিকা দেওয়া হয়েছে। শতাধিক ছাগল মারা যাওয়ার ঘটনাটি আপনার মাধ্যমে জেনে বৃহস্পতিবার বিকেলে সার্জনসহ হাসপাতালের টিম পাঠিয়ে মৃত ছাগলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অফিস সকাল ৯টা থেকে ৪টা, সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ মার্কেট

অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আটক, ট্রাক জব্দ

বাংলাদেশ সীমান্তে নদী-খালে সাপ-কুমির নামাবে বিএসএফ

এভারেস্টে মৃত্যুফাঁদ: পর্যটকদের বিষ খাইয়ে ১৫০ কোটি টাকার বিমা জালিয়াতি, নেপথ্যে গাইড-হাসপাতাল

বৃদ্ধকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত