Ajker Patrika

বাজারদর: তেল, মাংস ও মুরগির বাজার এখনো চড়া

  • খোলা পাম ও সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৭-১০ টাকা
  • গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা কেজি
  • সোনালি মুরগির দাম উঠেছে ৪০০ টাকা কেজিতে
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২: ২৫
বাজারদর: তেল, মাংস ও মুরগির বাজার এখনো চড়া

রোজা ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাড়তি চাহিদার কারণে যে কটি পণ্যের দাম বেড়েছিল, তার মধ্যে ভোজ্যতেল, গরুর মাংস ও সোনালি মুরগি অন্যতম। এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায় ঈদের কয়েক দিন আগেই। ক্রেতাদের প্রত্যাশা ছিল, ঈদ শেষে এসব পণ্যের দাম আবার আগের জায়গায় নেমে আসবে। কিন্তু এসব পণ্য আগের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ঈদের পর সবজির দাম কমে এলেও চলতি সপ্তাহে আবার কিছুটা বেড়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা, খিলগাঁও, তালতলা, মুগদা, মানিকনগরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়। তবে বাজারে আগের মতোই কিছুটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে ডিম, আলু, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু পণ্য। চাল, ডাল, চিনিসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম স্থির রয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ এলাকায় গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা কেজি। তবে কিছু কিছু বাজারে ৮০০ টাকা ও কিছু কিছু বাজারে ৭৫০ টাকাতেও মিলছে।

রোজার শুরুতে এক দফা বেড়ে গরুর মাংসের দাম ৭৫০-৮০০ টাকায় উঠেছিল। তবে ঈদের আগে তা কোথাও কোথাও ৮৫০-৯০০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হয়।

রাজধানীর খিলগাঁও বাজারের ক্রেতা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘গরুর মাংসের দামে কোনো শৃঙ্খলা নেই। আমি মুগদা বাজারে দেখলাম ৭৫০ টাকা, কিন্তু খিলগাঁও বাজারে ৮৫০ টাকা। এসব দেখার মতো সরকারের কেউ নেই মনে হচ্ছে।’

বেড়েছে সোনালি জাতের মুরগির দাম। ঈদের আগে আগে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৮০-৪০০ টাকা কেজি। অথচ রোজার শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সোনালি মুরগির দাম ছিল ২৭০-৩২০ টাকা।

রাজধানীর আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার, মহাখালী কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে হঠাৎ করে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে দুই দিন আগেও খোলা সয়াবিনের লিটার ছিল ১৮০-১৮৫ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৯০-১৯২ টাকা দরে। একইভাবে দুই দিন আগের ১৭৫ টাকার পাম অয়েলের লিটার গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৮৪-১৮৫ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে লিটারে দর বেড়েছে যথাক্রমে ৭-১০ ও ৯-১০ টাকা।

সর্বশেষ গত ডিসেম্বর সরকার প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৭৬ ও পাম অয়েল ১৬৬ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। সেই হিসাবে বাজারে সয়াবিনের লিটার ১৪-১৬ এবং পাম অয়েল ১৮-১৯ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আগের মতোই রয়েছে, ১৯৫ টাকা লিটার। যদিও বোতলজাত তেলের সরবরাহ সংকট এখনো কাটেনি।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। সে কারণে মিলগেটে দর বেড়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে তেলের দামে।

ভোজ্যতেলের পাশাপাশি বাজারে সবজির দরও বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। কোনোটির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

গতকাল প্রতি কেজি পটোল ৮০ থেকে ৮৫, ঢ্যাঁড়স ৭০-৭৫, উচ্ছে ১০০-১২০ এবং বেগুন ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। শিম বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা কেজি।

সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, ট্রাকের ভাড়া আগের তুলনায় এক-দেড় হাজার টাকা বেড়েছে। এ কারণে সবজির দর বাড়তি। তবে মৌসুম শেষ হওয়ায় শিমের দাম বাড়ছে বলে জানান তাঁরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ আটকে দেওয়ার সুপারিশ বিশেষ কমিটির

কুমিল্লায় ২ সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিলেন এসি ল্যান্ড

রাত ৮টার পর দেশের সব দোকান-শপিং মল বন্ধ থাকবে, সিদ্ধান্ত মালিক সমিতির

অফিস সকাল ৯টা থেকে ৪টা, সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ মার্কেট

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত